পবিত্র কোরআনের ১০ কিরাতে সর্বোচ্চ সনদ পেলেন বাংলাদেশি ক্বারি রায়হান

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:২৯ পিএম

সম্প্রতি মিসরের আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে পবিত্র কোরআনের ১০ কেরাতে সর্বোচ্চ সনদ অর্জন করেছেন বাংলাদেশের হাফেজ, মাওলানা, মুফতি ও ক্বারি রায়হান মাহমুদ আজহারি।

কোরআন তিলাওয়াত, হিফজ ও কিরাতের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন কোরআন প্রতিযোগিতায়ও রয়েছে তার উল্লেখযোগ্য সাফল্য।

ঢাকার সাভারের রাজফুলবাড়িয়ার রাজাঘাট গ্রামের তরুণ ক্বারি রায়হান মাহমুদ। শৈশব থেকেই অসাধারণ মেধা ও কোরআনের প্রতি গভীর অনুরাগ নিয়ে বেড়ে ওঠা এই তরুণ এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। হিফজ, কিরাত, তাজউইদ, হাদিস ও ফিকহের পাশাপাশি আরবি ভাষা ও ভাষাবিজ্ঞানে উচ্চশিক্ষা নিয়ে তিনি এগিয়ে চলেছেন ইসলামী জ্ঞান ও কোরআনের খিদমতের পথে।

ছোটবেলাতেই সাভারের বড় মাদরাসায় পবিত্র কোরআন হিফজ সম্পন্ন করেন তিনি। এরপর ঢাকার বিভিন্ন স্বনামধন্য ইসলামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কৃতিত্বের সঙ্গে পড়াশোনা করেন।

মাওলানা আবু তাহের মিসবাহ পরিচালিত মাদরাসাতুল মাদীনা, মোহাম্মদপুরের জামিয়া রহমানিয়া আরাবিয়া থেকে দাওরায়ে হাদিস (মাস্টার্স) এবং কামরাঙ্গীরচরের জামিয়া আরাবিয়া রাবিউল উলুম থেকে মুফতি (ইসলামিক আইন ও ফিকহ) সম্পন্ন করেন রায়হান। শিক্ষাজীবনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ স্তরেই তিনি ‘মুমতাজ’-সর্বোচ্চ গ্রেড অর্জন করেন।

এরপর কোরআন তিলাওয়াতের দক্ষতাকে আরও শাণিত করতে লালবাগ মা‘হাদুল কিরাত থেকে উচ্চতর তাজউইদ ও কিরাতের শিক্ষা গ্রহণ করেন। জ্ঞানার্জনের এই ধারাবাহিকতায় এক পর্যায়ে তিনি পাড়ি জমান মিসরে।
বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন ও মর্যাদাপূর্ণ ইসলামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আরবি ভাষা ও ভাষাবিজ্ঞানে ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেছেন রায়হান মাহমুদ। বর্তমানে তিনি আল-আজহারের তানতা শাখায় ‘উলুমুল কোরআন ও কিরাত’ বিভাগে অধ্যয়নরত রয়েছেন।

আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতাতেও নিজের মেধা ও দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন এই তরুণ ক্বারি।

মিসরের ধর্ম মন্ত্রণালয় আয়োজিত আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ৫৫টি দেশের প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে তিনি ষষ্ঠ স্থান অর্জন করেন। এ ছাড়া ‘ওফাউল আজয়াল’ ও ‘সুফারাউল হিদায়া’ আয়োজিত আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে বাংলাদেশের জন্য গৌরব বয়ে আনেন তিনি।

শিক্ষাজীবন ও কোরআনের খিদমতে রায়হানের এই অগ্রযাত্রা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এমন প্রত্যাশা তার শিক্ষক, পরিবার ও দেশবাসীর। বিশ্বমঞ্চে কোরআন, ইসলাম ও বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে তিনি আগামী দিনে আরো বড় সাফল্য অর্জন করবেন এমনটাই আশা সংশ্লিষ্টদের।

এএম
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত