পাবনায় শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা: আসামির বাড়ি গুঁড়িয়ে দিলো বিক্ষুব্ধ জনতা

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৪৪ পিএম

পাবনা সদর উপজেলায় ১০ বছর বয়সী শিশুকন্যা কামরুন্নাহার কলিকে গণধর্ষণ ও নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় চরম ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে পুরো এলাকায়। ঘৃণ্য এই অপরাধের সঙ্গে জড়িত দুজনকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেপ্তার করলেও এলাকাবাসীর ক্ষোভ কমেনি।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজ শেষে ফুঁসে ওঠা শত শত গ্রামবাসী একত্রিত হয়ে ঘটনার মূল অভিযুক্ত মোস্তফা কামালের (৫৫) দোতলা বাসভবনে চড়াও হন। কয়েক ঘণ্টাব্যাপী ভাঙচুর চালিয়ে ক্ষুব্ধ জনতা ভবনটিকে প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত করে।

গ্রামবাসীদের সূত্রে জানা গেছে, জুমার নামাজ শেষেই দোগাছি ইউনিয়নে অবস্থিত অভিযুক্ত মোস্তফার বাড়ির দিকে মিছিল নিয়ে যান কয়েকশ মানুষ। সেখানে সীমানা প্রাচীর, দরজা ও জানালার গ্রিল ভেঙে ভেতরে ঢুকে চরম ভাঙচুর চালানো হয়। ভেতরের আসবাবপত্র তছনছ করার পাশাপাশি নানা মালামাল খুলে নিয়ে যাওয়া হয়। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আগের দিন থেকেই সেখানে পুলিশ মোতায়েন থাকলেও জনরোষের মুখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সদস্যরা পিছু হটতে বাধ্য হন।

ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা পারভেজ জানান, “গতকাল থেকেই সেখানে পুলিশ অবস্থান করছিল। কিন্তু জুমার পর একসাথে বিপুল সংখ্যক মানুষ চলে এলে পুলিশ আর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেনি এবং একপর্যায়ে সরে দাঁড়ায়। ছোট শিশুটির সাথে হওয়া এই পাশবিক অত্যাচার কেউ মেনে নিতে পারছে না।” অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবির পাশাপাশি এলাকায় তার কোনো চিহ্ন না রাখার হুঁশিয়ারি দেন তারা।

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, “বাড়িটিতে পুলিশ মোতায়েন করে পরিবেশ শান্ত রাখার চেষ্টা করা হয়। তবে সম্ভাব্য ভাঙচুর ও বড় ধরনের ক্ষতির বিষয়টি মাথায় রেখে আগের দিনই বাড়ির গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।”

উল্লেখ্য, গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় কেনাকাটা করতে বের হয়ে নিখোঁজ হয়েছিল শিশু কামরুন্নাহার কলি। নিখোঁজের সাত দিন পর ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে একটি পরিত্যক্ত ডোবা থেকে তার বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের অনুসন্ধানে জানা যায়, মোস্তফা ও তার ভাড়াটিয়া ইয়াছিন আলী (২১) ফুসলিয়ে শিশুটিকে মুদি দোকানের পেছনের কক্ষে নিয়ে পাশবিক নির্যাতন চালায়। পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হওয়ার ভয়ে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। এরপর লাশটি বস্তায় ভরে প্রথমে খাটের নিচে এবং পরে ডোবায় ফেলে আসা হয়।

ইতিমধ্যেই মূল আসামি মোস্তফা কামাল ও ইয়াছিন আলীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের মোবাইল থেকে উদ্ধার হওয়া ডিজিটাল তথ্যাদির ভিত্তিতে এ অপরাধের সত্যতা নিশ্চিত হওয়া গেছে। আসামিদের বিরুদ্ধে দ্রুত চার্জশিট জমা দেওয়ার আইনি প্রক্রিয়া চলছে।

ওয়াইএ
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত