আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) বিরুদ্ধে বড় ধরনের ও সর্বাত্মক নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন ট্রাম্প প্রশাসন। এ পদক্ষেপের ফলে দ্য হেগ ভিত্তিক এই আন্তর্জাতিক বিচারালয়ের অর্থায়ন, দৈনন্দিন কার্যক্রম ও বিচারিক তদন্ত প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত বা অচল হয়ে পড়তে পারে।
মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম 'দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল'-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার নিয়ম অনুযায়ী ৬ থেকে ৭ মাসের রেস পিরিয়ড বা ছাড়ের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আইসিসির সঙ্গে প্রায় সব ধরনের লেনদেন নিষিদ্ধ করা হবে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র শুধু আদালতের নির্দিষ্ট কিছু বিচারক বা কৌঁসুলিদের ওপর ব্যক্তিগত নিষেধাজ্ঞা দিয়ে আসছিল। তবে এবার সরাসরি সম্পূর্ণ সংস্থাটিকেই লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে নিষেধাজ্ঞা দিতে যাচ্ছে ওয়াশিংটন, যা যুক্তরাষ্ট্রের এই বিরোধিতার ক্ষেত্রকে এক চরম উত্তেজনার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে মার্কিন ট্রাম্প প্রশাসন শীঘ্রই আনুষ্ঠানিকভাবে এই কঠোর নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিতে যাচ্ছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে বা তার পরপরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হতে পারে।
এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে মার্কিন ট্রেজারি বা অর্থ বিভাগের বিশেষ লাইসেন্স ছাড়া কোনো মার্কিন নাগরিক বা প্রতিষ্ঠান আইসিসিকে কোনো অর্থ, পণ্য বা সেবা দিতে পারবে না। যেহেতু বিশ্বের প্রধান প্রধান ব্যাংক ও আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল, তাই তারা মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মেনে অত্যন্ত সতর্ক অবস্থান নিতে বাধ্য হয়।
আইসিসির সভাপতি এবং রেজিস্টার আগেই সতর্ক করে বলেছেন যে, পুরো সংস্থার ওপর এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলে তা তাদের তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) ও বিমা সেবা ক্রয়, নতুন তদন্তকারী নিয়োগ এবং মার্কিন কর্মীদের বেতনসহ দৈনন্দিন আর্থিক লেনদেন পরিচালনা করা অসম্ভব করে তুলবে।
উল্লেখ্য, জাতীয় আদালতগুলো যখন গণহত্যার মতো গুরুতর অপরাধ, যুদ্ধাপরাধ কিংবা মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে অক্ষম বা অনিচ্ছুক হয়, তখন সেসব ব্যক্তিবর্গের বিচার করতে ২০০২ সালে আইসিসি প্রতিষ্ঠিত হয়।
তবে যুক্তরাষ্ট্র কখনোই এই আন্তর্জাতিক আদালতের সদস্য ছিল না। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, আইসিসির সদস্য নয় এমন দেশের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে সংস্থাটি নিজের এক্তিয়ার লঙ্ঘন করেছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের নভেম্বরে গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে আইসিসি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করার পর থেকেই ওয়াশিংটনের সঙ্গে সংস্থাটির সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটে। ইসরায়েলও যুক্তরাষ্ট্রের মতো আইসিসির সদস্য নয় এবং আদালতের এই এক্তিয়ার সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছে।
এছাড়া আফগানিস্তানে মার্কিন সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অপরাধের অভিযোগ নিয়ে তদন্ত করায় আগে থেকেই আইসিসির ওপর ক্ষুব্ধ ওয়াশিংটন। চলতি বছরের জুলাইয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই আদালতকে আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার প্রচার শুরু করেন এবং অন্যান্য দেশগুলোকে আইসিসি থেকে সদস্যপদ তুলে নেওয়ার আহ্বান জানান।
ট্রাম্প প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থান এমন এক সময়ে এলো যখন সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিশ্বজুড়ে আইসিসির বিরুদ্ধে বিরোধিতা দৃশ্যমান হচ্ছে। বুর্কিনা ফাসো, মালি এবং নাইজারের পথ অনুসরণ করে গত জুলাইয়ে চাদ ও ভেনিজুয়েলা এই আদালত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বেরিয়ে যাওয়ার পদক্ষেপ নেয়। অন্যদিকে, আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক চারটি মানবাধিকার সংস্থা ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করে দাবি করেছে, এসব মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে তাদের আইনি ও মানবাধিকারমূলক কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
সূত্র: আল-জাজিরা
হরমুজে জাহাজ চলাচল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যের তথ্যে বড় গরমিল!
মেসির ফ্রি কিক গোলেও জয় পেল না ইন্টার মায়ামি
যে শর্তে আজীবন পারিবারিক পেনশন পাবেন বিধবা স্ত্রী-বিপত্নীক স্বামী
জাপান সফর শেষে দেশে ফিরেছেন সেনাপ্রধান