ট্রাম্পের হুমকি কৌশলগত হতাশারই লক্ষণ: ইরানি সেনাবাহিনী

আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২৩ পিএম

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বারবার দেওয়া হুমকি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ প্রচারণার হাতিয়ার এবং তা শক্তির নয় বরং দেশটির কৌশলগত অচলাবস্থার পরিচায়ক বলে মন্তব্য করেছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফ। ইরানের সেনাবাহিনীর কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর খাতাম আল-আম্বিয়ার পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের শত্রুতাপূর্ণ মন্তব্য ও বারংবার হুমকি, একইসঙ্গে বিশ্বে আগ্রাসন, নিরাপত্তাহীনতা ও জলদস্যুতাকে বৈধতা দিতে জাতিসংঘের মঞ্চের অপব্যবহার-সবকিছুই মূলত অভ্যন্তরীণ প্রচারণার হাতিয়ার, বাস্তব পরিস্থিতির প্রতিফলন নয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘এ ধরনের বক্তব্য ইরানি জাতির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনে তাদের কৌশলগত অচলাবস্থাকেই তুলে ধরে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর ক্লান্তি বিবেচনায় ভিত্তিহীন দাবি ও হুমকির এই পুনরাবৃত্তি শক্তির নয়, বরং তাদের কৌশলগত হতাশারই লক্ষণ।’

জেনারেল স্টাফের ভাষ্যমতে, ইরান বরাবরই এই অঞ্চলের নিরাপত্তার মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে এসেছে, বিশেষ করে মুক্ত ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে। অন্যদিকে পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অবৈধ, বেআইনি ও আগ্রাসী উপস্থিতিই এখানকার হুমকি, নিরাপত্তাহীনতা ও অস্থিরতার প্রকৃত উৎস। বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে বারবার আগ্রাসী পদক্ষেপ ও সমুদ্রে জলদস্যুতায় নিজেদের বিপর্যয় পুষিয়ে নিতেই যুক্তরাষ্ট্র গোটা বিশ্ব অর্থনীতিকে জিম্মি করে ফেলেছে।

বিবৃতিতে জোর দিয়ে বলা হয়, ট্রাম্পের এই বাগাড়ম্বর শক্তির প্রকৃত হিসাব-নিকাশ বদলে দেবে না এবং নতুন বৈশ্বিক শৃঙ্খলায় যুক্তরাষ্ট্রের সংকুচিত অবস্থান কিংবা ইরান ও প্রতিরোধ ফ্রন্টের বিরুদ্ধে যুদ্ধে তাদের লজ্জাজনক পরাজয়ের ক্ষতিপূরণ কখনোই দেবে না।

আট বছরব্যাপী ‘পবিত্র প্রতিরক্ষা’ যুদ্ধ এবং পরবর্তী দ্বিতীয় ও তৃতীয় চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে শক্তি সঞ্চয় করা ইরানের সুসজ্জিত সশস্ত্র বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলে বিবৃতিতে দাবি করা হয়। জাতির নিহত নেতার হত্যাকারী এবং মিনাব ও লামার্দের শাজারেহ তাইয়েবেহ স্কুলের নিষ্পাপ ও নির্যাতিত শিশুসহ দেশের অন্যান্য শহীদদের প্রসঙ্গ টেনে বিবৃতিতে বলা হয়, আগ্রাসী শক্তি এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠীর নেতাদের এসব ‘অর্থহীন কথাবার্তা ও হুমকির’ বিপরীতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী আরও তীব্র, আরও কঠোর ও আগে থেকে অনুমান করা কঠিন-এমন প্রতিঘাত চালানোর জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

বিবৃতির শেষাংশে বলা হয়, আল্লাহর ইচ্ছায় ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রেসিডেন্ট জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বিশ্বের সামনে সাহসী জাতি, বীর সশস্ত্র বাহিনী এবং শক্তিশালী ও অপরাজেয় ইরানের কর্তৃত্বের বার্তা পৌঁছে দেবেন।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের একাধিক শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির জবাবে একই ধরনের কঠোর অবস্থান তুলে ধরেছেন। আইআরজিসি-র মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি সম্প্রতি বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে ইরান ‘পূর্ণ শক্তি’ দিয়ে জবাব দেবে। একই সুরে নেতার সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল ইয়াহইয়া রহিম সাফাভি সতর্ক করে বলেছিলেন, ইরানের ভূখণ্ডে কোনো বিদেশি বাহিনী অবতরণের চেষ্টা করলে তা নিশ্চিতভাবেই ধ্বংস হয়ে যাবে।

সূত্র: মেহের নিউজ এজেন্সি

এটিটিআর
আরও পড়ুন