হরমুজ খুলবে না, শর্ত পূরণ ছাড়া আলোচনাও নয়: রেজায়ি

আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩১ পিএম

ইরানি বিমান চলাচল সীমিত করার যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনায় যোগ না দিতে আঞ্চলিক দেশগুলোকে কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়ি। তাঁর ভাষায়, ইরানি বিমানকে আঞ্চলিক বিমানবন্দর ব্যবহার করতে না দেওয়ার যেকোনো চেষ্টা সেসব দেশের নিজস্ব বিমান চলাচলকেও প্রভাবিত করতে পারে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রেজায়ি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের জবাব দেবে তেহরান। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ট্রাম্পের ভাষণকে তিনি আখ্যা দেন ‘এক পরাজিত অপরাধীর বক্তব্য’ হিসেবে, যিনি নিজেকে রক্ষার চেষ্টা করছেন।

রেজায়ি বলেন, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের বিজয়ের পর থেকে ইরান কখনো অন্য কোনো দেশে হামলা চালায়নি, বরং সবসময় শুধু আত্মরক্ষা করে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠীর আগ্রাসনের কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, যুদ্ধ থেকে ইরান আরও শক্তিশালী হয়ে বেরিয়ে এসেছে।

তিনি আরও দাবি করেন, সংঘাতের সময় মার্কিন সামরিক সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি করেছে ইরান, যার মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানে আঘাত হানা এবং ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনকে লক্ষ্যবস্তু বানানো। রেজায়ির ভাষ্যমতে, ইরান একটি মার্কিন সাবমেরিনও দখলে নিয়েছে এবং বর্তমানে এর ওপর রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং চালাচ্ছে।

কূটনীতি প্রসঙ্গে রেজায়ি বলেন, ইরানের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি, তবে তেহরান নতুন এক কূটনৈতিক পদ্ধতি অনুসরণ করছে। তাঁর কথায়, ‘আমরা অতীতে ফিরে যাচ্ছি না,’ এবং যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানি জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারে বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে বলে জোর দেন তিনি।

তিনি সরাসরি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র আগে আমাদের শর্ত পূরণ না করলে, না হরমুজ প্রণালি খুলবে, না আমরা কোনো আলোচনায় বসব।’

রেজায়ি জানান, ইরানের সাতটি শর্ত রয়েছে, যা লিখিত আকারে পাকিস্তান ও কাতারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার আগে তেহরানের শর্তগুলো অবশ্যই পূরণ করতে হবে।

নতুন কূটনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে ইরান নিশ্চয়তা চাইছে বলে জানান রেজায়ি, এবং জোর দিয়ে বলেন, হরমুজ প্রণালি এখনো ইরানের অধিকার আদায়ের একটি হাতিয়ার হিসেবেই থেকে যাচ্ছে।

ইরান যুদ্ধ চাইছে-এমন অভিযোগও নাকচ করে দেন তিনি। তাঁর ভাষায়, ইয়েমেনিরা স্বাধীন এবং ইয়েমেন-সৌদি আরবের মধ্যে কোনো সংঘাত তেহরান চায় না।

ইরানি বিমানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের মার্কিন পরিকল্পনার প্রতিক্রিয়ায় রেজায়ি আঞ্চলিক দেশগুলোকে ইরানের বিমান চলাচল খাত সীমিত করার ব্যাপারে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সহযোগিতা না করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘আমরা অঞ্চলের সব দেশের কাছে অনুরোধ করছি, যুক্তরাষ্ট্রের এই দুঃসাহসিক পরিকল্পনায় যোগ দেবেন না।’

তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘তারা যদি ইরানি বিমানকে চলাচলের অনুমতি না দেয়, তাহলে তাদের নিজেদের বিমানবন্দরেও কোনো ফ্লাইট চলতে পারবে না।’

আঞ্চলিক ও প্রতিবেশী দেশগুলোর উদ্দেশে রেজায়ি বলেন, ‘আপনারা আমাদের বন্ধু, কিন্তু আপনাদের যুক্তরাষ্ট্রের কাতারে শামিল হওয়া উচিত নয়। যুদ্ধ যেন আর না ছড়ায়, তা ঠেকাতে আপনাদেরই ভূমিকা রাখতে হবে।’

সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি

এটিটিআর
আরও পড়ুন