জোরপূর্বক স্বীকারোক্তির অভিযোগ, ইরানে রেড ক্রিসেন্ট কর্মীর মৃত্যুদণ্ড

আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:০৫ পিএম

জোর করে স্বীকারোক্তি আদায়ের অভিযোগ ওঠার পরও ইরানের সুপ্রিম কোর্ট রেড ক্রিসেন্টের ২৭ বছর বয়সী কর্মী মোজদেহ হাশেমি বাজরগানির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে। কারাগার থেকে দেওয়া এক অডিও বার্তায় মোজদেহ দাবি করেছিলেন, জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাকে মারধর করে স্বীকারোক্তিতে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয়। একটি সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

মোজদেহ বর্তমানে কাজভিন কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি। তার বিরুদ্ধে শত্রুর কাছে একটি সামরিক স্থাপনার অবস্থান পাঠানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে তিনি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। মামলার পুরো বিচারপ্রক্রিয়ায় নিজের পছন্দের আইনজীবী নেওয়ার সুযোগও তাকে দেওয়া হয়নি বলে সূত্রটি জানিয়েছে।

চলতি বছরের শুরুতে কারাগার থেকে দেওয়া এক অডিও বার্তায় মোজদেহ জানান, ৪ এপ্রিল রাত আড়াইটার দিকে নিরাপত্তা বাহিনী তার বাড়িতে অভিযান চালায়। ধাতু কাটার যন্ত্র দিয়ে দরজা কেটে তারা বাড়িতে প্রবেশ করে। ওই সময় তিনি অসুস্থ ও বয়স্ক মায়ের সঙ্গে বসবাস করছিলেন।

গ্রেপ্তারের পর দীর্ঘ সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদের সময় পাইপ ও লাঠি দিয়ে তার মাথা, ঘাড় ও কাঁধে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন মোজদেহ। এতে তার দুটি দাঁত ভেঙে যায়। পাশাপাশি মাথা ঘোরা, শ্বাসকষ্ট ও হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যায় ভুগছিলেন বলেও জানান তিনি। শরীরে আঘাতের চিহ্ন স্পষ্ট থাকার পরও তাকে পরীক্ষা করতে কোনো চিকিৎসক আসেননি বলে তার দাবি। মারধরের ঘটনা নথিভুক্ত করতে তাকে ফরেনসিক চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার অনুরোধও উপেক্ষা করা হয় বলে জানান তিনি।

মোজদেহের ভাষ্য, জিজ্ঞাসাবাদকারীরা তাকে স্বীকারোক্তি দিতে চাপ দেন। তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ চাপিয়ে দিয়ে কর্মকর্তারা যা বলবেন, তা লিখে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হতো বলেও দাবি করেন তিনি।

তার আরও অভিযোগ, চোখ বাঁধা অবস্থায় তাকে মারধর করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদের সময় দেওয়া তার বক্তব্য কেটে-ছেঁটে এমন একটি ভিডিও তৈরি করা হয়, যেখানে তাকে সন্ত্রাসী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। তার বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তি ও বিদেশ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছিল। কাজভিন প্রদেশের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ওই স্বীকারোক্তির ভিডিও প্রচার করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে বিদেশ থেকে কোনো অর্থ নেওয়ার অভিযোগও মোজদেহ অস্বীকার করেছেন।

সূত্রটি জানিয়েছে, আটকের কারণে মোজদেহের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা খারাপ হয়েছে। কারাগারে থাকার সময় তিনি কয়েকবার খিঁচুনিতে আক্রান্ত হয়ে জ্ঞান হারিয়েছেন। পরে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও আংশিক সুস্থ হওয়ার পর তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়।

অডিও বার্তায় নিজের মায়ের অবস্থার কথাও তুলে ধরেন মোজদেহ। তার দাবি, কাজভিনের কাছে আলভান্দ শহরে থাকা অসুস্থ মায়ের দেখাশোনার জন্য এখন আর কেউ নেই।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছর ইরানের বিচার বিভাগ গুপ্তচরবৃত্তি, বিদেশে তথ্য পাঠানো কিংবা শত্রুভাবাপন্ন রাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগে কয়েক ডজন ব্যক্তিকে দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড থেকে মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত সাজা দিয়েছে। তাদের অনেককেই জানুয়ারির বিক্ষোভের পর গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত স্বীকারোক্তি নির্যাতনের মাধ্যমে আদায় করা হয়েছে বলে এর আগে বিভিন্ন মামলায় আসামি ও তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ধরনের মামলায় বিপ্লবী আদালতের বিচারপ্রক্রিয়া সাধারণত জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত না থাকায় প্রমাণ যাচাইয়ের সুযোগ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল

এএস
আরও পড়ুন