তিস্তার পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কুড়িগ্রামের উলিপুরে তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি, বসতভিটা ও গাছপালা। ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মাদরাসা, সড়ক, বাজারসহ বিভিন্ন স্থাপনা। এরই মধ্যে কয়েকটি পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে অন্যের জমি, বাঁধের পাশে কিংবা খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, তিস্তার পানি বাড়ার পর বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন তীব্র হয়েছে। পানি কমতে শুরু করলে ভাঙন আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। ভাঙন থেকে বসতভিটা ও ফসলি জমি রক্ষায় দ্রুত জিওব্যাগ ফেলার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন তারা।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টায় তিস্তার পানি বিপৎসীমার ২৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। পরে পানি কমে বিকেল ৩টায় বিপৎসীমার ৫৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়।
উলিপুর উপজেলার চাপরারপাড় হাজিপাড়া, উচ্চগ্রাম, বসনিয়াপাড়া, মুন্সিপাড়া, কর্পূরা, ঠুটাপাইকার, গোড়াইপিয়ার, শেখেরটেক, পাকারমাথা, দড়ি কিশোরপুর, বামনপাড়া, লাল মসজিদ, কুমারপাড়া, ভেন্ডারপাড়া, ফকিরপাড়া, মাঝিপাড়া, পশ্চিম বজরা, চর বজরা, বাঁধের মাথা, উত্তর সাদুয়া, দামারহাট, খামার দামারহাট, সাতালস্ক, সন্তোষ অভিরাম ও কাজিরচরসহ বিভিন্ন এলাকা ভাঙনকবলিত হিসেবে চিহ্নিত করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
এসব এলাকার কিছু অংশে সরকারি উদ্যোগে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর কাজ হলেও অনেক স্থানে এখনও ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। নতুন করে ভাঙনে একের পর এক আবাদি জমি, বসতবাড়ি ও বড় গাছ নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দলদলিয়া ইউনিয়নের নালারচর লাল মসজিদ এলাকায় গত কয়েক দিনে সাতটি পরিবার নদীভাঙনের শিকার হয়েছে। বসতভিটা হারিয়ে এসব পরিবারের কেউ অন্যের জমিতে, কেউ বাঁধের পাশে আবার কেউ খোলা আকাশের নিচে পরিবার নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন।
থেতরাই ইউনিয়নের পাকারমাথা শেখেরটেক এলাকার বাসিন্দা মফিল উদ্দিন বলেন, এক একর জমিতে প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরচ করে আমন চাষ করেছেন। কয়েক দিনের মধ্যে ধান ঘরে তোলার কথা ছিল। কিন্তু নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে ভাঙন শুরু হওয়ায় সেই ফসলও এখন নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
দলদলিয়া ইউনিয়নের তিস্তা নদীবেষ্টিত নালারচর লাল জুম্মাপাড়া এলাকার ছকিনা বেগম (৬২) বলেন, গত এক সপ্তাহে তাদের এলাকার সাতটি পরিবার নদীভাঙনের শিকার হয়ে নিঃস্ব হয়েছে। ভিটেমাটি হারিয়ে অনেকেই আশ্রয়ের জন্য অন্যের জমি কিংবা বাঁধের পাশে চলে গেছেন।
নদীপাড়ের বাসিন্দারা বলেন, পানি কমে গেলে তিস্তার স্রোত আরও তীব্র হয়ে ভাঙন বাড়তে পারে। তাই এখনই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, বৃষ্টি ও উজানের ঢলে তিস্তার পানি বেড়েছিল। তবে ইতোমধ্যে পানি কমতে শুরু করেছে। এর ফলে কয়েকটি পয়েন্টে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনকবলিত এলাকাগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব এলাকায় জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিজয়নগরে দুই পক্ষের দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত ২০
দুই মাসে ৮ হাজার ৬২৬ কোটি টাকার বিদেশি ঋণ পরিশোধ