আল-জাজিরার বিশ্লেষণ

যুদ্ধজাহাজ দূরে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে ওয়াশিংটন

আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২৯ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যেই হরমুজ প্রণালির নিকটবর্তী অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজসহ বিভিন্ন জাহাজে হামলার ঘটনায় নিজেদের সফলতা দাবি করছে ইরান। তেহরানের দাবি, এসব হামলার কারণেই ওয়াশিংটন তাদের যুদ্ধজাহাজগুলো ইরানি উপকূল থেকে আরও দূরে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে। 

সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের অ্যান্টি-শিপ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে মার্কিন আট জন মেরিন সেনা ধোঁয়া শ্বাসপ্রশ্বাসের ফলে অসুস্থ হওয়া এবং ট্রমাটিক ব্রেন ইনজুরিতে আক্রান্ত হওয়ার খবর প্রকাশের পরই এই আলোচনা সামনে এসেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো চলতি মাসের শুরুর দিকে তাদের আগের ব্লকেড বা অবরোধের অবস্থান থেকে পিছিয়ে গেছে। পূর্বে ওমান উপসাগরের প্রবেশদ্বার এবং চাবাহার বন্দরের কাছাকাছি অবস্থান করলেও, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের হাত থেকে বাঁচতে তারা এখন আরও গভীরে আরব সাগরের মধ্যবর্তী অঞ্চলে সরে গেছে। 

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিও সাম্প্রতিক এক বার্তায় মার্কিন নৌবাহিনীর এই পিছু হটাকে ইরানের যোদ্ধাদের বীরত্বপূর্ণ ও বেদনাদায়ক আঘাতের ফল বলে অভিহিত করেছেন। এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দক্ষিণ বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ বজায় রাখার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরানের সর্বশেষ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। তা সত্ত্বেও গত কয়েক সপ্তাহে মার্কিন সামরিক বাহিনী এই প্রণালি দিয়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে জ্বালানি চালানে সফল হয়েছে। 

মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট জানিয়েছেন, প্রতিদিন প্রায় ১৩ মিলিয়ন ব্যারেল এবং অর্থসচিব স্কট বেসেন্টের প্রাক্কলন অনুযায়ী প্রতিদিন ১৫ থেকে ২২ মিলিয়ন ব্যারেল কাঁচা তেল এই পথ দিয়ে পার হচ্ছে, যা যুদ্ধপূর্ব ২০ মিলিয়ন ব্যারেলের কাছাকাছি। আরব উপসাগরীয় দেশগুলো মার্কিন বাহিনীর সুরক্ষায় পুরনো বা কম মূল্যবান ভেসেল ব্যবহার করে এবং ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রেখে ওমানের উপকূল ঘেঁষে ‘শাটল সিস্টেমের’ মাধ্যমে তেল পরিবহন অব্যাহত রেখেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন নেতৃত্বাধীন অবরোধ ও অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতার মুখেও ইরান হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের কৌশলগত প্রভাব বজায় রাখতে নিয়মিত হামলা চালিয়ে যাওয়ার নীতি অব্যাহত রাখতে পারে। মধ্যস্থতাকারীরা উভয় পক্ষের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা পুনরায় চালুর চেষ্টা করলেও এবং পূর্ণাঙ্গ সর্বাত্মক যুদ্ধের সম্ভাবনা তাৎক্ষণিকভাবে না থাকলেও, ইরানের এই অবস্থান পরিস্থিতিকে একটি নিয়ন্ত্রিত উত্তেজনার দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

জেএম
আরও পড়ুন