মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বুধবারের (৩০ সেপ্টেম্বর) ওই ফোনালাপে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি ও গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতার অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন দুই নেতা।
ফোনালাপের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মোদি বলেন, ট্রাম্পের সঙ্গে তার ‘ফলপ্রসূ আলোচনা’ হয়েছে। দুই দেশের ‘কমপ্রিহেনসিভ গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’ এগিয়ে নিতে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখার বিষয়ে তারা একমত হয়েছেন।
ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (পিএমও) জানিয়েছে, আলোচনায় বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্যান্য ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা এগিয়ে নেওয়ার চলমান প্রচেষ্টা নিয়েও মতবিনিময় করেন তারা।
দুই নেতা ভারত-মার্কিন কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও এগিয়ে নিতে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ অব্যাহত রাখার বিষয়ে সম্মত হয়েছেন। তারা পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার বিষয়েও একমত হন।
মোদি-ট্রাম্পের এই ফোনালাপ এমন সময়ে হলো, যখন দুই দেশের মধ্যে একটি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র সফর করছেন। সেখানে তিনি মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তি এবং একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতা নিয়ে আলোচনা করছেন।
এদিকে রাশিয়ার কাছ থেকে ভারতের তেল আমদানিকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটনের নতুন শুল্ক ও নিষেধাজ্ঞা-সংক্রান্ত পদক্ষেপও দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাণিজ্য চুক্তির আলোচনায় এই বিষয়টি প্রভাব ফেলছে এবং নয়াদিল্লি নতুন মার্কিন শুল্ক ব্যবস্থার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে।
তবে বুধবারের ফোনালাপের বিষয়ে ভারতের সরকারি বিবৃতিতে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বা সংশ্লিষ্ট মার্কিন আইনের বিষয়ে মোদি সরাসরি কোনো মন্তব্য করেছেন কি না, তা উল্লেখ করা হয়নি। সরকারি বিবৃতিতে মূলত দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার কথা বলা হয়েছে।
মোদি ও ট্রাম্পের এই আলোচনার পর দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সম্পর্ক নিয়ে পরবর্তী পর্যায়ের আলোচনা আরও ঘনিষ্ঠভাবে এগিয়ে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে নয়াদিল্লি। একই সময়ে চলমান বাণিজ্য আলোচনা এবং জ্বালানি-সংক্রান্ত মতপার্থক্য কীভাবে সামাল দেওয়া হয়, সেদিকেও নজর থাকবে।
বিএনপির এমপি মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
দুই সপ্তাহ বা এক মাসে ইরানের অর্থনীতি ধসে পড়বে না: অর্থমন্ত্রী