দক্ষিণ লেবানন ও গাজা উপত্যকায় গত এক মাসে ৫০০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানায়, এসব হামলার মধ্যে দক্ষিণ লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর ৩৭০টির বেশি লক্ষ্যবস্তু এবং গাজা উপত্যকায় ১৪০টির বেশি লক্ষ্যবস্তু রয়েছে।
ইসরায়েলি বাহিনীর ভাষ্য, দক্ষিণ লেবাননে চালানো হামলাগুলোতে হিজবুল্লাহর সামরিক অবকাঠামো ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট স্থাপনা লক্ষ্য করা হয়েছে। গাজায় হামলার ক্ষেত্রে হামাসের সামরিক সক্ষমতা ও অবকাঠামোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করা হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক তৎপরতা বাড়ার তথ্যও বিভিন্ন সংঘাত পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ACLED-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, জুনে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান ও ড্রোন হামলা অব্যাহত ছিল এবং সেপ্টেম্বরে এসব হামলা যুদ্ধবিরতির পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।
দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে উত্তেজনার কেন্দ্রে রয়েছে সীমান্তসংলগ্ন নিরাপত্তা অঞ্চল। এর মধ্যে আলি আল-তাহের রিজও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সেপ্টেম্বরে ইসরায়েল দাবি করে, ওই এলাকায় হিজবুল্লাহর একটি ভূগর্ভস্থ অবকাঠামো ধ্বংস করা হয়েছে এবং সেখানে নিজেদের নিরাপত্তা অঞ্চল আরও সুসংহত করা হয়েছে।
এর আগে রয়টার্স জানিয়েছিল, দক্ষিণ লেবাননের ওই এলাকায় ইরানি সামরিক সদস্যদের উপস্থিতি নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সতর্কবার্তা আদান-প্রদান হয়েছিল বলে কয়েকজন আঞ্চলিক কর্মকর্তা দাবি করেছেন। তবে ওই তথ্যের স্বাধীনভাবে পূর্ণ সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্যেও পার্থক্য রয়েছে।
গাজাতেও ইসরায়েলি সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনী নিয়মিতভাবে হামাসের সামরিক অবকাঠামো ও যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে হামলার দাবি করে আসছে। অন্যদিকে এসব হামলায় বেসামরিক মানুষের হতাহত এবং অবকাঠামো ধ্বংস নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক উদ্বেগ রয়েছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত এক মাসে দুই ফ্রন্টে চালানো ৫০০টির বেশি হামলার মধ্যে লেবাননেই সংখ্যাটি সবচেয়ে বেশি। এর মাধ্যমে দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর ওপর সামরিক চাপ অব্যাহত রাখার ইসরায়েলি কৌশলটি স্পষ্ট হচ্ছে।
তবে ইসরায়েলি বাহিনী যে সংখ্যক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার কথা জানিয়েছে, সেগুলোর প্রতিটির প্রকৃতি বা হামলায় কতজন নিহত ও আহত হয়েছেন—এ বিষয়ে এই বিবৃতিতে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি। ফলে ৫০০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলার সংখ্যাটি ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর প্রকাশিত হিসাব হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।
ইরানের ভয়েই কী আরব দেশে নেতানিয়াহুর দৌড়ঝাঁপ?
পদত্যাগ করেছেন ফেরদৌস আহমেদ মিষ্টি