আইনজীবীদের নিয়ে প্রকাশ্যে অবমাননাকর ও আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগে লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিমকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশ পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে লিখিতভাবে ওই বক্তব্য প্রত্যাহার এবং আইনজীবী সমাজের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে বলা হয়েছে; অন্যথায় তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ নভেম্বর) জেলা জজ কোর্টের আইনজীবী ওমর ফারুক তুষারের পক্ষে এই লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়। নোটিশে অভিযোগ করা হয়, বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার কচুয়া আহমদিয়া ফাজিল মাদ্রাসার বার্ষিক ক্রীড়া ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম আইনজীবীদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেন।
ওই অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য সেলিম বলেন, ‘আইনজীবীরা রাতে দোয়া করেন যেন পরদিন দুই চার জন মাদকসেবীকে পেয়ে জামিন করিয়ে বাজার করে বাড়ি ফিরতে পারেন। আইনজীবীরা সামান্য টাকার বিনিময়ে মাদকসেবীদের জামিন করান।’ নোটিশে এই বক্তব্যকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, মনগড়া ও কুরুচিপূর্ণ আখ্যা দিয়ে বলা হয়, বিচারব্যবস্থার অপরিহার্য অঙ্গ আইনজীবী সমাজকে নিয়ে একজন সংসদ সদস্যের এমন মন্তব্য একজন দায়িত্বশীল জনপ্রতিনিধির আচরণ হতে পারে না। বিরোধী দলে থাকাকালে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মৌলিক অধিকার ও আইনি সুরক্ষায় আইনজীবীদের অবদান অনস্বীকার্য বলেও নোটিশে তুলে ধরা হয়।
নোটিশদাতা আইনজীবী ওমর ফারুক তুষার দাবি করেন, এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্যে আইনজীবীদের পেশাগত ও সামাজিক মর্যাদা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে, যা সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদের পরিপন্থি এবং দণ্ডবিধির ৪৯৯ ও ৫০০ ধারায় স্পষ্ট মানহানির অপরাধ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে বক্তব্যটি ছড়িয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষের কাছে আইনজীবীদের সম্মানহানি ঘটেছে। নোটিশে জানানো হয়, নির্ধারিত সাত দিনের মধ্যে এমপি তার বক্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা না চাইলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী উপযুক্ত আদালতে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ফুটপাত দখলমুক্তে ডিএনসিসির কঠোর বার্তা: ‘অভিযান চলবেই’
অবশেষে নিয়োগপত্র পেলেন ময়মনসিংহের ২০ প্রার্থী