ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে বড় সামরিক অভিযান, নিহত ৭০০ যোদ্ধা

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪৭ এএম

ইয়েমেনের রাজধানী সানাসহ দেশজুড়ে হুথিদের অবস্থান লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও কামানের গোলাবর্ষণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইয়েমেনের সামরিক বাহিনী। এসব হামলায় অন্তত ৭০০ হুথি যোদ্ধা নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার।

শনিবার (৩ অক্টোবর) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সবচেয়ে তীব্র লড়াই চলছে তাইজ শহর ও এর আশপাশের এলাকায়। এরই মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়কপথ বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। দেশটির সবচেয়ে জনবহুল এলাকাগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াই আরও তীব্র হওয়ার মধ্যেই এসব হামলা চালানো হয়েছে।

গতকাল আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের বাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল মাজেদ আবদুল্লাহ আল-নাজিলি বলেন, হুথিদের অবস্থান, চলাচল ও সামরিক সক্ষমতাকে লক্ষ্য করে সেনাবাহিনী ‘২৫৭টি নির্ভুল হামলা’ চালিয়েছে।

এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইয়েমেন সরকারের বাহিনীর এই মুখপাত্র বলেন, এসব হামলায় যুদ্ধবিমান, ড্রোন, কামান, ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট লঞ্চার ব্যবহার করা হয়েছে।

প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এসব অভিযানে অন্তত ৭০০ হুথি যোদ্ধা নিহত হয়েছে জানিয়ে আল-নাজিলি বলেন, একই সঙ্গে ‘গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত সামরিক স্থাপনা’ ধ্বংস হয়েছে। এর মধ্যে ১৭০টি যুদ্ধযান ও ভারী সামরিক সরঞ্জাম রয়েছে।

তবে সরকারি বাহিনীর কোনো সদস্য হতাহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে কিছু বলেননি সেনাবাহিনীর এই মুখপাত্র। তিনি বলেন, এসব হামলায় হুথিদের ‘যুদ্ধ সক্ষমতা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং নিজেদের বাড়িঘর ও গ্রামে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা সীমিত হয়েছে’।

এর আগে আল-নাজিলি জানিয়েছিলেন, ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারি বাহিনী গত ২৪ ঘণ্টায় হুথিদের বিরুদ্ধে প্রায় ৫০০টি সামরিক অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ৫৪০ জন হুথি যোদ্ধাকে হত্যা বা আহত করেছে।

তিনি জানান, অধিকাংশ হতাহতের ঘটনা ঘটেছে তাইজ প্রদেশে। সেখানে সরকারি বাহিনী হুথিদের অগ্রযাত্রা রুখে দিয়েছে।

জানা যায়, সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকা তাইজ শহর নতুন করে শুরু হওয়া লড়াইয়ের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।

গতকাল তাইজ থেকে আলজাজিরার প্রতিবেদক মাহা আলী জানান, শহরটির আশপাশের বিভিন্ন ফ্রন্টে সংঘর্ষ ও উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।

এর মধ্যে শহরের পশ্চিম প্রান্তে সবচেয়ে তীব্র লড়াই চলছে। তিনি জানান, হামলায় হুথিরা অস্বাভাবিক মাত্রায় গোলাবর্ষণ করছে। বিশেষ করে পশ্চিমাঞ্চলীয় এলাকাগুলো লক্ষ্য করে হুথিদের দিক থেকে ছোড়া গোলার শব্দ এখনো শোনা যাচ্ছে।

গোলাবর্ষণ অব্যাহত থাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন বলে জানান মাহা আলী। তিনি বলেন, লড়াইয়ে বেসামরিক মানুষও হতাহত হয়েছেন। এর মধ্যে ধুবাবের একটি আবাসিক এলাকায় ছোড়া একটি গোলার আঘাতে এক শিশু নিহত হয়েছে। গোলার টুকরার আঘাতেই শিশুটির মৃত্যু হয়।

সামা ফ্রন্টে গত শুক্রবার পাহাড়ি এলাকায় হুথিরা অগ্রসর হয়েছে উল্লেখ করে মাহা আলী জানান, সেখানে সরকারি বাহিনী ও বিদ্রোহীদের মধ্যে তীব্র লড়াই এখনো চলছে। মাঠপর্যায়ের কয়েকটি সূত্র তাঁকে জানিয়েছে, সামা এলাকা থেকে বিপুলসংখ্যক বাসিন্দা চলে গেছেন।

গত এক দশকেরও বেশি সময়ে এত বড় পরিসরে এমন ঘটনা দেখা যায়নি বলেও জানান তিনি।

এএম
আরও পড়ুন