কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তির বিপুল সুবিধার কথা তুলে ধরে ওপেনএআই-এর (OpenAI) প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান বলেছেন, এই প্রযুক্তির সুফল পেতে সমাজকে কিছু ঝুঁকি মেনে নিতে হবে। পলিটিকোর প্রযুক্তি বিষয়ক নিউজলেটার ‘ডিসকোডেড’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
অল্টম্যান বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি যে এই প্রযুক্তির সুফল পেতে এবং মানুষের স্বাধীন ব্যবহারের সুযোগ নিশ্চিত করতে বিশ্ববাসীর কিছু খারাপ ঘটনাও মেনে নেওয়া উচিত।”
এআই খাতের আরেক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিকের (Anthropic) সঙ্গে নীতিগত দৃষ্টিভঙ্গির ফারাক রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এআই নিয়ন্ত্রণ বা রেগুলেশন নিয়ে উভয় প্রতিষ্ঠানের চিন্তা-ভাবনায় বিস্তর ফারাক রয়েছে। বিশেষ করে, অ্যানথ্রপিকের কড়াকড়ি বা ধীরগতির নীতি নিয়ে নিজের দ্বিমতের কথা জানান তিনি। যেখানে কিছু মানুষ মনে করে এআই প্রযুক্তি এতই শক্তিশালী ও বিপজ্জনক যে সানফ্রান্সিসকোর একটিমাত্র ল্যাবের নিয়ন্ত্রণে এটি থাকা উচিত, সেটিকে “একেবারেই অগ্রহণযোগ্য সমঝোতা” বলে আখ্যায়িত করেন অল্টম্যান।
তিনি আরও বলেন, “আমি এমন কোনো চুক্তিতে রাজি হব না যেখানে বলা হবে যে কোনো বড় সাইবার হ্যাকিং হবে না, প্রযুক্তির অপব্যবহার হবে না, কোনো স্ক্যাম বা খারাপ কিছু ঘটবে না।” তার মতে, মানুষ এই প্রযুক্তির মাধ্যমে খারাপ বিষয়ের চেয়ে বহুগুণ বেশি ভালো কাজ করবে।
এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ এবং এর সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে যখন বিশ্বজুড়ে বিতর্ক চলছে, ঠিক তখনই অল্টম্যানের এমন মন্তব্য সামনে এল। এর আগে অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার গতি কিছুটা ধীর করার আহ্বান জানিয়ে একটি প্রবন্ধ প্রকাশ করেছিলেন। এমনকি উন্নত মডেলগুলোতে নিজস্ব আত্মরক্ষামূলক আচরণ বা তথ্য গোপনের প্রবণতা দেখা দিতে পারে বলেও সতর্ক করেছিল অ্যানথ্রপিক। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন কোনো কঠোর বিধিমালার প্রয়োজনীয়তা উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, এতে চীনা প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় আমেরিকান কোম্পানিগুলো পিছিয়ে পড়তে পারে।
সূত্র: রয়টার্স
অজান্তেই লিভার নষ্ট করছে সকালের এই অভ্যাসগুলো