মিয়ানমারে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেলে সচিবালয়ে ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইনভেস্টিগেটিভ মেকানিজম ফর মিয়ানমার (আইআইএমএম)-এর প্রধান নিকোলাস কুজিয়ানের সঙ্গে বৈঠককালে তিনি এ আহ্বান জানান।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। বৈঠকে মন্ত্রী বলপ্রয়োগে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের ন্যায্য অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং মিয়ানমারে তাদের টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আইআইএমএমকে সোচ্চার ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
বৈঠকে নিকোলাস কুজিয়ান জানান, ২০২৪ সালের শুরু থেকে ১ লাখ ৫৪ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে এসেছে। তারা আগে থেকে বাংলাদেশে অবস্থানরত ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। রাখাইনে সহিংসতা ও নিরাপত্তাহীনতা অব্যাহত থাকায় এসব রোহিঙ্গা নিরাপদে নিজ দেশে ফিরে যেতে পারছে না। তিনি বলেন, এ পরিস্থিতি মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুত অবস্থার সম্পর্ককে তুলে ধরে।
জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের ২০১৮ সালের ২৭ সেপ্টেম্বরের ৩৯/২ নম্বর প্রস্তাবের মাধ্যমে মিয়ানমার-বিষয়ক স্বাধীন তদন্ত ব্যবস্থা (আইআইএমএম) প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ৭৩/২৬৪ নম্বর প্রস্তাবের মাধ্যমে এর প্রতিষ্ঠাকে স্বাগত জানায়। জেনেভাভিত্তিক এই ব্যবস্থা ২০১৯ সালের আগস্টে কার্যক্রম শুরু করে।
আইআইএমএম ২০১১ সাল থেকে মিয়ানমারে সংঘটিত সবচেয়ে গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধ এবং আন্তর্জাতিক আইনের অন্যান্য লঙ্ঘনের প্রমাণ সংগ্রহ, একত্রকরণ, সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণ করে। জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক আদালতে ফৌজদারি বিচার কার্যক্রমে ব্যবহারের জন্য প্রমাণ সুবিন্যস্ত ও বিশ্লেষণ করে ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করাই প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
১০২ গুণী শিক্ষকের হাতে সম্মাননা তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী
গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের কোনো চেষ্টা বা ইচ্ছা সরকারের নেই: তথ্যমন্ত্রী