মেয়ের নির্দেশে হেরোইনের চালান নিয়ে ৬৫ বছর বয়সী নারী গ্রেপ্তার

আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১১ পিএম

যশোর থেকে ঢাকায় হেরোইনের চালান নিয়ে আসার অভিযোগে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে ৬৫ বছর বয়সী এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। তার কাছ থেকে ১০০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ১০ লাখ টাকা। গ্রেপ্তার নারী জিজ্ঞাসাবাদে দাবি করেছেন, মেয়ের চাপ ও নির্দেশেই তিনি মাদকের চালানটি বহন করছিলেন। গ্রেপ্তারকৃত নারীর নাম মাসুমা খাতুন (৬৫)।

বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ডিএনসির উপপরিচালক মেহেদী হাসান।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাতে যাত্রাবাড়ীর দোলাইরপাড় গোল চত্বর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে হেরোইনের পাশাপাশি একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

ডিএনসি জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে, যশোর থেকে ঢাকাগামী নড়াইল এক্সপ্রেস বাসে করে এক নারী হেরোইনের চালান নিয়ে আসছেন। খবর পেয়ে সহকারী পরিচালক মোস্তাক আহমেদের নেতৃত্বে বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের একটি দল দোলাইরপাড় গোল চত্বর এলাকায় অবস্থান নেয়।

সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে বাসটি থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় বাসের মাঝের আসনে থাকা এক নারীকে সন্দেহ হলে তাকে আটক করা হয়। পরে তার পরিচয় মাসুমা খাতুন বলে নিশ্চিত করেন ডিএনসির কর্মকর্তারা।

নারী সদস্যদের সহায়তায় মাসুমার শরীর ও পোশাক তল্লাশি করা হলে পরনের পোশাকের ভেতরে স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো একটি পলিব্যাগ পাওয়া যায়। সেটি খুলে ১০০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে ডিএনসি।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মাসুমা জানান, তিনি যশোর থেকে হেরোইনের চালানটি ঢাকায় নিয়ে আসছিলেন। তার দাবি, মাদক পরিবহনের জন্য তার মেয়ে তাহমিনা তাকে বিভিন্নভাবে চাপ দিতেন এবং এবারও মেয়ের নির্দেশেই তিনি চালানটি বহন করেন। এর আগে একইভাবে আরও দুইবার হেরোইন বহন করেছেন বলেও জিজ্ঞাসাবাদে জানান তিনি।

ডিএনসি কর্মকর্তারা জানান, প্রাথমিক অনুসন্ধানে যাত্রাবাড়ী এলাকায় তাহমিনার মাদক কারবারের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এসব তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে। তার অবস্থান শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মাদক পরিবহনে পরিবারের সদস্য কিংবা বয়স্ক নারীদের ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, সেটিও তদন্তে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ডিএনসি। এর পেছনে সংঘবদ্ধ কোনো চক্রের পরিকল্পিত কৌশল রয়েছে কি না, মাদকের উৎস, গন্তব্য ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতেও তদন্ত চলছে।

এ ঘটনায় মাসুমা খাতুনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। জব্দ করা মোবাইল ফোনের তথ্য, গ্রেপ্তার নারীর বক্তব্য এবং অন্যান্য গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে মাদকের উৎস, সরবরাহকারী ও সহযোগীদের শনাক্তে পরবর্তী কার্যক্রম চালানো হবে বলে জানিয়েছে ডিএনসি।

এমইউ
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত