ইসরাইলের রাজনীতিতে দীর্ঘ সময় ধরে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে থাকা বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন সবচেয়ে বড় সংকটের মুখে। আসন্ন সংসদ নির্বাচনে তার দল ও জোটের ভরাডুবির শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বেশ কয়েকটি জটিল অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সমীকরণ তার পতনের পথ তৈরি করেছে।
ভোটারদের একটি বড় অংশের ক্ষোভের মূল কারণ ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামাসের নিরাপত্তা ব্যর্থতা। ওই ভয়াবহ ঘটনার পর থেকে দেশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে একমাত্র নেতানিয়াহুই এখন পর্যন্ত পদ আঁকড়ে আছেন। অথচ স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠনে তার অস্বীকৃতি এবং গোয়েন্দা প্রধানদের ওপর দোষ চাপানোর প্রবণতা সাধারণ মানুষের আস্থাকে সম্পূর্ণ নাড়িয়ে দিয়েছে।
জনমত জরিপগুলোতেও তার জনপ্রিয়তার ব্যাপক পতনের চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিগত নির্বাচনে লিকুদ পার্টি ৩২ আসন পেলেও এবার তা নেমে আসতে পারে মোটে ২০ থেকে ২২টিতে। পার্লামেন্টে ৬১ আসনের ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে যেখানে তার জোটের প্রয়োজন, সেখানে তারা আটকে থাকতে পারে সর্বোচ্চ ৫৪ আসনে।
রাজনীতিতে টিকে থাকার এই লড়াইয়ের পেছনে আইনি জটিলতাও বড় ভূমিকা রাখছে। তার বিরুদ্ধে চলমান দুর্নীতির বিচার এড়াতে ক্ষমতার আসন ধরে রাখা তার জন্য এক প্রকার বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্ষমতা হারালেই ঝুলে থাকা মামলার কঠোর রায়ের মুখে পড়ার তীব্র শঙ্কা রয়েছে।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক মঞ্চেও নেতানিয়াহুর বন্ধুত্বের পরিধি সংকুচিত হয়ে আসছে। এমনকি মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গেও তার দূরত্ব তৈরি হয়েছে, যা ইসরাইলের সামরিক ও কূটনৈতিক সুরক্ষাকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে। সব মিলিয়ে এবারের নির্বাচন নেতানিয়াহুর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ হিসেবে হাজির হয়েছে।
সূত্র: অ্যাক্সিওস
এয়ারবাসের সঙ্গে বিমান বাংলাদেশের চুক্তি সম্পন্ন
শিশুর স্বাস্থ্যঝুঁকি রুখতে রাষ্ট্র ব্যর্থ: ড. আমানুল্লাহ