এক প্রতিষ্ঠান থেকেই নোবেল পেয়েছেন ৫২ জন

আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১৪ পিএম

বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়। শিক্ষা, গবেষণা, অর্থনীতি, চিকিৎসাবিজ্ঞান ও পদার্থবিজ্ঞানে প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘদিনের অবদান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুপরিচিত। বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষক, গবেষক ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে নোবেল পুরস্কারজয়ীদের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। সংগৃহীত একটি তালিকার হিসাবে, হার্ভার্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নোবেলজয়ীর সংখ্যা ৫২ জন। তবে এই সংখ্যা নির্ধারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার ধরন এবং গণনার পদ্ধতি বিবেচনা করা জরুরি।

প্রদত্ত তালিকা অনুযায়ী, নোবেলজয়ীদের মধ্যে চিকিৎসাশাস্ত্রে ১৮ জন, অর্থনীতিতে ১২ জন, পদার্থবিজ্ঞানে ১১ জন, রসায়নে সাতজন, শান্তিতে দুজন এবং সাহিত্যে একজন রয়েছেন। এই হিসাব অনুযায়ী চিকিৎসাশাস্ত্র ও অর্থনীতি—এ দুই বিভাগেই হার্ভার্ড-সংশ্লিষ্ট নোবেলজয়ীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। তবে তালিকার বিভাগভিত্তিক সংখ্যা যোগ করলে মোট দাঁড়ায় ৫১ জন হলেও, চূড়ান্ত সংখ্যা নিশ্চিত করতে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও নোবেল পুরস্কারের আনুষ্ঠানিক তথ্যের সঙ্গে তালিকাটি মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন।

অর্থনীতিতে ১২ নোবেলজয়ী
অর্থনীতিতে নোবেলজয়ীদের তালিকায় রয়েছেন ক্লাউডিয়া গোল্ডিন, মাইকেল ক্রেমার, অলিভার হার্ট, অ্যালভিন রথ, এরিক মাসকিন, থমাস স্কেলিং, এ. মাইকেল স্পেন্স, অমর্ত্য সেন, রবার্ট সি. মার্টন, ওয়াসিলি লিওনটিফ, কেনেথ অ্যারো ও সাইমন কুজনেটস।

তালিকায় তাঁদের পুরস্কারপ্রাপ্তির সাল ১৯৭১ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত বিস্তৃত। অর্থনৈতিক তত্ত্ব, বাজারের আচরণ, চুক্তি, দর-কষাকষি, উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক বৈষম্য নিয়ে গবেষণায় তাঁদের অবদান আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। বিশেষ করে অমর্ত্য সেনের কল্যাণ অর্থনীতি ও দারিদ্র্য বিশ্লেষণ এবং ক্লাউডিয়া গোল্ডিনের শ্রমবাজার ও নারী-পুরুষের অর্থনৈতিক বৈষম্যবিষয়ক গবেষণা অর্থনীতির আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে।

চিকিৎসাশাস্ত্রে সর্বাধিক
প্রদত্ত তালিকায় চিকিৎসাশাস্ত্রের নোবেলজয়ী হিসেবে ১৮ জনের নাম রয়েছে। তাঁদের মধ্যে গ্যারি রুভকুন, উইলিয়াম কেলিন, জ্যাক সজস্টাক, লিন্ডা বাক, জোসেফ ই. মারে, টরস্টেন ওয়াইসল, ডেভিড হুবেল, বারুজ বেনাসেরাফ, জর্জ ওয়াল্ড, কনরাড ব্লক, জেমস ডি. ওয়াটসন, জর্জ ভন বেকেসি, থমাস এইচ. ওয়েলার, ফ্রেডেরিক সি. রবিনস, জন এফ. এন্ডার্স, ফ্রিটজ এ. লিপম্যান, উইলিয়াম পি. মারফি ও জর্জ মিনট রয়েছেন।

তালিকাভুক্ত এসব বিজ্ঞানী ও চিকিৎসা গবেষকের কাজ জেনেটিক্স, কোষজীববিজ্ঞান, রোগপ্রতিরোধব্যবস্থা, স্নায়ুবিজ্ঞান এবং সংক্রামক রোগের গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। চিকিৎসাশাস্ত্রে নোবেল পুরস্কার সাধারণত শারীরবিদ্যা বা চিকিৎসাবিজ্ঞানে গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারের স্বীকৃতি হিসেবে দেওয়া হয়। ফলে এ বিভাগের অবদান মূল্যায়নে মৌলিক বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার ও গবেষণার প্রভাব বিশেষ গুরুত্ব পায়।

পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়নে অবদান
পদার্থবিজ্ঞানে হার্ভার্ড-সংশ্লিষ্ট ১১ জন নোবেলজয়ীর নাম রয়েছে তালিকায়। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন রয় জে. গ্লাউবার, রিকার্দো জিয়াকোনি, নরম্যান র‍্যামজি, কার্লো রুব্বিয়া, নিকোলাস ব্লুমবার্গেন, স্টিভেন ওয়েইনবার্গ, শেলডন গ্লাসো, জন এইচ. ভ্যান ভ্লেক, জুলিয়ান শুইংগার, এডওয়ার্ড এম. পার্সেল ও পার্সি ডব্লিউ. ব্রিজম্যান।

কোয়ান্টাম তত্ত্ব, মৌলিক কণার পদার্থবিজ্ঞান, আলোকবিজ্ঞান, চৌম্বকীয় অনুরণন এবং পদার্থের বৈশিষ্ট্য নিয়ে তাঁদের গবেষণা আধুনিক বিজ্ঞানের বিকাশে ভূমিকা রেখেছে।

রসায়নে সাতজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁরা হলেন মার্টিন কারপ্লাস, ইলিয়াস জে. কোরি, ডাডলি আর. হার্স্কবাখ, ওয়াল্টার গিলবার্ট, উইলিয়াম এল. লিপসকম্ব, রবার্ট বার্নস উডওয়ার্ড ও টি. ডব্লিউ. রিচার্ডস। রাসায়নিক বিক্রিয়ার গতিবিদ্যা, জৈব সংশ্লেষণ, অণুর গঠন এবং রাসায়নিক বন্ধন সম্পর্কে গবেষণায় তাঁদের অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

সাহিত্য ও শান্তিতে নোবেল
সাহিত্য বিভাগে তালিকাভুক্ত রয়েছেন আইরিশ কবি সীমাস হিনি। তিনি ১৯৯৫ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান। তাঁর কবিতায় ইতিহাস, পরিচয়, স্মৃতি ও মানবিক অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে।

শান্তিতে নোবেলজয়ী হিসেবে তালিকায় রয়েছেন রালফ জে. বুনচে ও আল গোর। রালফ বুনচে ১৯৫০ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ফিলিস্তিনে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকার জন্য শান্তিতে নোবেল পান। অন্যদিকে, আল গোর ২০০৭ সালে জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি ও এর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ নোবেল শান্তি পুরস্কার পান। তিনি হার্ভার্ড কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী।২০২৬ সালের শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন মানবাধিকারকর্মী নাভি পিল্লাই। তিনিও এ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন স্কলার।

সংখ্যার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সংশ্লিষ্টতার ধরন
হার্ভার্ডের সঙ্গে নোবেলজয়ীদের সম্পর্ক এক রকম নয়। কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক বা গবেষক হিসেবে কাজ করেছেন, কেউ সেখানে পড়াশোনা করেছেন, আবার কেউ কোনো নির্দিষ্ট সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাই হার্ভার্ড-সংশ্লিষ্ট নোবেলজয়ীর সংখ্যা উল্লেখ করার সময় শুধু প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও পুরস্কারপ্রাপ্ত অধ্যাপকদের এক করে দেখলে গণনায় বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।

এ ছাড়া কোনো ব্যক্তি নোবেল পুরস্কার পাওয়ার সময় হার্ভার্ডে কর্মরত ছিলেন কি না, আর তাঁর গবেষণার স্বীকৃতি পাওয়ার আগে বা পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল কি না—এই দুই বিষয়ও আলাদা। 

সব মিলিয়ে, প্রদত্ত হিসাব হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে নোবেলজয়ীদের বিস্তৃত সম্পর্কের একটি চিত্র তুলে ধরে। তবে ৫১ জনের সংখ্যাটিকে চূড়ান্ত ও আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান হিসেবে প্রকাশের আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নোবেলজয়ী তালিকা এবং নোবেল পুরস্কারের সরকারি তথ্যের সঙ্গে পুনরায় যাচাই করা জরুরি।

AHA
আরও পড়ুন