দেশে ১১২টি বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ রাখাসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে ৮৬টি ডিপ্লোমা পর্যায়ের প্রতিষ্ঠান টানা তিন বছর শিক্ষার্থী ভর্তি করেনি। অন্যদিকে, ২৬টি কারিগরি এইচএসসি (বিএমটি) প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের পাঠদানের অনুমোদন বাতিলের আগে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড। সন্তোষজনক জবাব না পেলে আগামী ২০২৭-২০২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে ভর্তি কার্যক্রম বন্ধসহ অনুমোদন বাতিলের পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
পঞ্চগড় সদরের নতুন বস্তি এলাকায় অবস্থিত মিনাল বেসরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অবস্থা আরও করুণ। গত পাঁচ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটিতে কার্যত শিক্ষার্থী নেই। কাগজে-কলমে ১৫ জন শিক্ষক থাকলেও তাঁদের কেউ নিয়মিত প্রতিষ্ঠানে আসেন না। শুধু অধ্যক্ষ মাঝেমধ্যে সেখানে যান।
শনিবার (১০ অক্টোবর) প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ জামিনুল ইসলাম জানান, করোনার পর থেকে শিক্ষার্থী কমতে শুরু করে। শিক্ষার্থীরা সাধারণ শিক্ষার দিকে ঝুঁকে পড়ায় গত চার বছর ধরে কেউ ভর্তি হয়নি। এ পরিস্থিতিতে কারিগরি শিক্ষার প্রতি সরকারের বিশেষ নজর দেওয়ার প্রত্যাশা করেন তিনি।
কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং, ডিপ্লোমা ইন টেক্সটাইল ও ডিপ্লোমা ইন এগ্রিকালচার শিক্ষাক্রম পরিচালনাকারী ৮৬টি প্রতিষ্ঠান গত তিন বছর ধরে শিক্ষার্থী ভর্তি করেনি। এ কারণে মিনাল ইনস্টিটিউটসহ এসব প্রতিষ্ঠানকে দ্বিতীয় দফায় কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছে। এর আগে গত জুলাইয়ে টানা তিন বছর ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ২৬টি কারিগরি এইচএসসি (বিএমটি) প্রতিষ্ঠানকে নোটিশ দেওয়া হয়।
বোর্ডের চিঠিতে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হলে প্রতিষ্ঠানগুলোর ২০২৭-২০২৮ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত করা হবে। একই সঙ্গে চূড়ান্তভাবে পাঠদানের অনুমোদন বাতিলের পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
ডিপ্লোমা পর্যায়ের বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন, পাঠদান ও স্বীকৃতিসংক্রান্ত নীতিমালা-২০২০-এর ৪.৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানের ফলাফল, অবকাঠামো, শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ, ব্যবস্থাপনা কমিটি, আসবাবপত্র, যন্ত্রপাতি, গ্রন্থাগারসহ নির্ধারিত শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে সরকারের অনুমোদনক্রমে বোর্ড পাঠদানের অনুমতি বাতিল করতে পারে। টানা তিন বছর শিক্ষার্থী ভর্তি না করাও অনুমোদন বাতিলের অন্যতম কারণ।
এদিকে, দেশের বেসরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটগুলোর শিক্ষার মান ও অনুমোদনপ্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে ৪৬৭টি বেসরকারি পলিটেকনিকের মধ্যে ঢাকাতেই প্রায় ৭০টি রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোর শিক্ষার মান, শিক্ষক-কর্মচারীদের যোগ্যতা ও অবকাঠামো নিয়ে অভিযোগ রয়েছে।
প্রতিষ্ঠান অনুমোদনে অনিয়মের অভিযোগও তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। ২০০৯ সালে প্রণীত এবং ২০১২ সালে সংশোধিত নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানগুলো শর্ত পূরণ করছে কি না, তা যথাযথভাবে যাচাই করা হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে অযোগ্য প্রতিষ্ঠান অনুমোদন পাওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এক কর্মকর্তা বলেন, নীতিমালার ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ শর্ত পূরণ করলেই কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বোর্ডের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
যুদ্ধাপরাধের দায়বদ্ধতা এড়াতে আরও মার্কিন প্রাণ বলি দিতে চান নেতানিয়াহু: আরাগচি
বোমা ইসরায়েলের কাছে, অথচ পরিদর্শন ইরানে: মোহাম্মদ ইসলামি