রিয়াদ বিমানবন্দর থেকে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে উড়োজাহাজ

আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০৫ পিএম

ইয়েমেনি বাহিনীর হামলার পর সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের বিমানবন্দর থেকে কয়েক ডজন উড়োজাহাজ অন্য বিমানবন্দরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার ঝুঁকির মধ্যে সৌদি আরবের বিমান সংস্থাগুলো উড়োজাহাজ স্থানান্তরের কার্যক্রম ত্বরান্বিত করেছে।

ইরানের সংবাদমাধ্যম তাসনিমের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডারের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার বিকেল নাগাদ রিয়াদ বিমানবন্দরে অবস্থানরত উড়োজাহাজের সংখ্যা ১৩৪ থেকে কমে ৩৮টিতে দাঁড়ায়।

তবে উড়োজাহাজের সংখ্যা কমে যাওয়ার কারণ, সেগুলো কোথায় সরানো হয়েছে এবং এ পরিবর্তনের সঙ্গে হামলার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না—এসব বিষয় স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

উড়োজাহাজের ক্ষয়ক্ষতি ৩৭৫ মিলিয়ন ডলারের?

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বরাতে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, একটি বিমা প্রতিবেদনে রিয়াদ বিমানবন্দরে একটি উড়োজাহাজ সম্পূর্ণ ধ্বংস এবং আরও পাঁচটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এসব উড়োজাহাজের মোট বিমাকৃত মূল্য প্রায় ৩৭৫ মিলিয়ন ডলার বলে দাবি করা হয়েছে।

তবে ক্ষতিগ্রস্ত উড়োজাহাজগুলোর পরিচয়, মালিকানা এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তাসনিমের প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি। ফলে এসব তথ্যকে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনের দাবি হিসেবেই দেখা প্রয়োজন।

সৌদির বিমান চলাচল খাতে চাপের আশঙ্কা

সৌদি আরব বিমান চলাচল খাত সম্প্রসারণ, বিমানবন্দর আধুনিকায়ন এবং উড়োজাহাজের বহর উন্নয়নে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করছে। এমন পরিস্থিতিতে বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হামলা হলে দেশটির বিমান পরিবহন ব্যবস্থায় প্রভাব পড়তে পারে বলে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, রিয়াদ বিমানবন্দর দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে সৌদি বিমান সংস্থাগুলোর ফ্লাইট পরিচালনা ও রুট ব্যবস্থাপনায় বিঘ্ন ঘটতে পারে। পাশাপাশি যুদ্ধজনিত ঝুঁকির কারণে উড়োজাহাজের বিমা প্রিমিয়ামও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সৌদি বিমানবন্দরকে লক্ষ্যবস্তু করার ঘোষণা

তাসনিমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গত এক সপ্তাহে ইয়েমেনি বাহিনীর সৌদি আরববিরোধী অভিযান নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। এসব হামলার কারণে দেশটির আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোর কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এর আগে ইয়েমেন সরকারের মুখপাত্র ওমর আল-বাখিতি সৌদি বিমানবন্দরগুলোকে ইয়েমেনি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন অভিযানের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বিভিন্ন দেশকে সৌদি আরবের আকাশসীমায় প্রবেশ না করার আহ্বান জানান।

তবে বিমানবন্দর বন্ধ থাকা, উড়োজাহাজ ধ্বংস হওয়া এবং আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হওয়ার দাবিগুলো স্বাধীন সূত্রে যাচাই করা জরুরি। সৌদি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও বিমান চলাচলসংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক তথ্য ছাড়া এসব দাবিকে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়।

এএম
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত