মে মাসের পর প্রথমবার ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলারে উঠল তেলের দাম

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২২ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলারে পৌঁছেছে। গত মে মাসের পর শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) প্রথমবারের মতো এ পর্যায়ে ওঠে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার ব্রেন্ট ক্রুডের ফিউচার মূল্য ব্যারেলপ্রতি ৩ দশমিক ৯৪ ডলার বা ৩ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ১০৯ দশমিক ৮৬ ডলারে স্থির হয়। ১৯ মে-র পর এটিই ছিল ব্রেন্টের সর্বোচ্চ সমাপনী দর।

একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ দশমিক ৪৪ ডলার বা ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ১০১ দশমিক ৪১ ডলারে দাঁড়ায়। ১৭ সেপ্টেম্বরের পর এটি ছিল ডব্লিউটিআইয়ের সর্বোচ্চ সমাপনী দর।

সপ্তাহজুড়ে ব্রেন্টের দাম বেড়েছে ৪ দশমিক ৯ শতাংশ। অন্যদিকে ডব্লিউটিআইয়ের দাম বেড়েছে ১০ দশমিক ৪ শতাংশ।

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় বাড়ছে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ

বাজার গবেষণা ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এনার্জি অ্যাসপেক্টস এক প্রতিবেদনে জানায়, সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার গুঞ্জনের মধ্যে সংঘাত বাড়ার আশঙ্কা ফিরে আসায় তেলের দাম আগের দিনের দরপতন কাটিয়ে ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি স্থাপনা ও সামুদ্রিক পরিবহনপথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তেলের বাজারে অস্থিরতা বাড়াচ্ছে। এ অঞ্চলে হামলা বাড়লে উৎপাদন, রপ্তানি ও পরিবহনে বিঘ্ন ঘটতে পারে—এমন আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা ভবিষ্যৎ সরবরাহের ঝুঁকি বিবেচনায় নিচ্ছেন।

এদিকে রাশিয়ার কাছ থেকে বিশ্ববাজারে কতটা ডিজেল সরবরাহ করা সম্ভব হবে, সেটিও পর্যবেক্ষণ করছেন বিনিয়োগকারীরা। ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার রিয়াজান তেল শোধনাগারের একটি ইউনিটের কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার খবরও সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা দীর্ঘস্থায়ী হলে তেলের দাম আরও অস্থির থাকতে পারে। তেলের দাম বাড়লে পরিবহন ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির ওপরও চাপ তৈরি হতে পারে।

এমএজেড
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত