মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়লে তা দীর্ঘস্থায়ী ক্ষয়যুদ্ধে রূপ নিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তিনি বলেছেন, প্রতিবেশী কোনো দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানে হামলা চালানো হলে ওই দেশ এবং সেখানে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো নিরাপদ থাকবে না।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) ইরাকের রাজধানী বাগদাদে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে যোগ দিতে পৌঁছানোর পর আলজাজিরাকে এসব কথা জানান আরাঘচি।
ইরানের এই পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনায় তেহরান স্পষ্ট বার্তা দিতে চায়—সংঘাতের আরও বিস্তার ঘটলে তা শুধু বর্তমান যুদ্ধক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং পুরো অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষয়ক্ষতি ও অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারে।
তিনি জানান, প্রতিবেশী দেশগুলোর ভূখণ্ড ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত হলে সংশ্লিষ্ট দেশ এবং সেখানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোও ইরানের পাল্টা পদক্ষেপের ঝুঁকিতে পড়বে। এটি আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের চলমান কূটনৈতিক আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।
আরাঘচির বাগদাদ সফরকে ইরান ও ইরাকের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং বৃহত্তর আঞ্চলিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। জ্বালানি বাজার, ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা এবং দুই দেশের দীর্ঘদিনের কৌশলগত সম্পর্কও আলোচনার বিষয় হতে পারে।
আলজাজিরার প্রতিবেদক তোহিদ আসাদির ভাষ্য অনুযায়ী, ওআইসির বৈঠকের ফাঁকে আরাঘচির বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করার কথা রয়েছে। এসব আলোচনায় উত্তেজনা প্রশমন এবং সংঘাতের বিস্তার ঠেকানোর বিষয়টি গুরুত্ব পেতে পারে।
ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগের মাধ্যমে আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করছে বলে জানান আসাদি। তবে একই সঙ্গে তেহরান সতর্ক করে দিচ্ছে, ইরানের বিরুদ্ধে অন্য দেশের ভূখণ্ড বা সামরিক স্থাপনা ব্যবহৃত হলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে।
ওআইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষদের ৫২তম অধিবেশন ১৭ ও ১৮ অক্টোবর বাগদাদে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এবারের প্রতিপাদ্য—‘সংলাপ ও সংহতি: শান্তি ও টেকসই উন্নয়ন এগিয়ে নেওয়ার দুটি অপরিহার্য স্তম্ভ’।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকে ফিলিস্তিন পরিস্থিতি, আঞ্চলিক রাজনৈতিক ও মানবিক সংকট, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, খাদ্যনিরাপত্তা এবং মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই বৈঠক আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে যোগাযোগ ও কূটনৈতিক সমন্বয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে। তবে বৈঠকের আলোচনায় কী সিদ্ধান্ত আসবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
গাড়ি, কৃষি প্রযুক্তি ও মেরিটাইম প্রদর্শনীতে মুখর আইসিসিবি
লাইসেন্স ছাড়াই চলছিলো কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্ট
কক্সবাজারে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন