সাত বছর পর দেশের বাইরে আবারও তিন জাতির টুর্নামেন্টে খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সংযুক্ত আরব আমিরাতে শনিবার (১৭ অক্টোবর) শুরু হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতায় উদ্বোধনী ম্যাচে জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি হবে লিটন দাসের দল। টুর্নামেন্টের অপর দল আফগানিস্তান।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ব্যস্ত সময় পার করছে বাংলাদেশ। টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি তিন সংস্করণেই নিয়মিত মাঠে নামতে হচ্ছে টাইগারদের। এর বাইরে রয়েছে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের লড়াই। সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাটিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়েও শেষ পর্যন্ত ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দলকে। সেই ম্যাচের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার তিন জাতির টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে নামছে বাংলাদেশ।
শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করবে লিটন দাসের দল। তিন দলের এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের অন্য প্রতিপক্ষ আফগানিস্তান।
২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ, ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও এশিয়া কাপসহ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সাদা বলের ক্রিকেটেও ব্যস্ত সময় কাটিয়েছে বাংলাদেশ। এর বাইরে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ এবং আইসিসির ভবিষ্যৎ সফরসূচি অনুযায়ী টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ তো রয়েছেই। সব মিলিয়ে লিটন দাস, নাজমুল হোসেন শান্ত, তানজিদ তামিম, তাওহিদ হৃদয়, মুশফিকুর রহিম, তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান, নাহিদ রানা ও হাসান মাহমুদদের ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নিয়ে।
তবে এবারের টুর্নামেন্ট ঘিরে ক্রিকেটপ্রেমীদের আগ্রহের অন্যতম কারণ, দীর্ঘ সাত বছর পর দেশের বাইরে আবারও তিন জাতির প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ। সর্বশেষ ২০১৯ সালে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হিসেবে আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজ খেলেছিল টাইগাররা। সেই প্রতিযোগিতায় স্বাগতিক আয়ারল্যান্ডের পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ক্যারিবীয়দের হারিয়ে শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ।
এর আগে ২০১৮ সালে দেশের মাটিতে আরেকটি ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টে অংশ নিয়েছিল বাংলাদেশ। সেখানে প্রতিপক্ষ ছিল শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়ে। তবে ফাইনালে শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে রানার্সআপ হয় মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। অর্থাৎ দেশের বাইরে সর্বশেষ তিন জাতির টুর্নামেন্ট খেলার সাত বছর পর এবং দেশের মাটিতে এমন প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার আট বছর পর আবারও ত্রিদেশীয় লড়াইয়ে নামছে বাংলাদেশ।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সাম্প্রতিক ওয়ানডে সিরিজের ফল অবশ্য বাংলাদেশের জন্য সুখকর ছিল না। চলতি বছরের জুলাইয়ে জিম্বাবুয়ের হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ২-১ ব্যবধানে হেরেছিল টাইগাররা। প্রথম ম্যাচে ২৫ রানে জয়ের পর দ্বিতীয় ম্যাচে ১৩ রানে জিতে সিরিজ নিশ্চিত করে স্বাগতিকেরা। শেষ ম্যাচে সাত উইকেটের জয় নিয়ে হোয়াইটওয়াশ এড়ায় বাংলাদেশ।
সেই সিরিজে বাংলাদেশের ব্যর্থতার অন্যতম কারণ ছিল জিম্বাবুয়ের পেসারদের কার্যকর বোলিং। ব্র্যাড ইভান্স ও মাসাকাদজা চিভাঙ্গার মতো ফাস্ট বোলারদের গতিময় বোলিংয়ের সামনে বেশ ভুগতে হয়েছিল বাংলাদেশের ব্যাটারদের। হারারে স্পোর্টস ক্লাবের বাড়তি গতি ও বাউন্সি উইকেটও জিম্বাবুয়ের পেসারদের সুবিধা দিয়েছিল।
তবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের উইকেটে হারারের মতো বাড়তি গতি ও বাউন্স পাওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলক কম। সেখানকার পিচ সাধারণত মন্থর ও ব্যাটিংসহায়ক হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় জিম্বাবুয়ের পেসাররা আগের সিরিজের মতো প্রভাব বিস্তার করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এই পরিস্থিতি বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক হতে পারে।
অবশ্য বাংলাদেশের পেস আক্রমণও যথেষ্ট শক্তিশালী। তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম ও নাহিদ রানার মতো বোলার থাকলেও গত জুলাইয়ের সিরিজে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সুবিধা করতে পারেনি বাংলাদেশ। মেহেদী হাসান মিরাজ, রিশাদ হোসেন ও মোসাদ্দেক হোসেনদের নিয়ে সাজানো বোলিং আক্রমণও স্বাগতিকদের থামাতে পারেনি। জিম্বাবুয়ের পেসারদের কার্যকর বোলিংয়ের পাশাপাশি মুজারাবানির মতো বোলারও বাংলাদেশের ব্যাটারদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছিলেন।
এবার আরব আমিরাতের তুলনামূলক মন্থর উইকেটে সেই চিত্র বদলাতে পারে। পেসারদের পাশাপাশি বাংলাদেশের স্পিনাররাও ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিতে পারেন। উইকেটের সুবিধা কাজে লাগিয়ে বোলিংয়ে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারলে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ভালো ফল পাওয়ার সুযোগ থাকবে লিটন দাসের দলের।
এখন দেখার বিষয়, সাত বছর পর দেশের বাইরে ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টে ফিরে বাংলাদেশ কেমন পারফরম্যান্স করে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচে জয় দিয়ে শুরু করতে পারলে পুরো প্রতিযোগিতায় আত্মবিশ্বাস নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবে টাইগাররা।
পরিবার নিয়ে ওমরাহ যাত্রার আনন্দ পরিণত হলো বিষাদে
কক্সবাজারে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন
কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুন: নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের ৬ জন