মদিনাগামী ফ্লাইটের জন্য পরিবারের অন্য সদস্যরা অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় জুস কিনতে বড় ছেলেকে নিয়ে বাইরে গিয়েছিলেন ভারতের হায়দরাবাদের বাসিন্দা মোহাম্মদ ইউসুফ আলি। বিমানবন্দর থেকে মাত্র কয়েকশ মিটার দূরে থাকতেই হুথিদের ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে ওই স্থানে।
এতে বাবা ও ছেলে গুরুতর আহত হন। পরে দুজনকেই হাসপাতালে নেওয়া হয়। ইউসুফ আলির অবস্থা ছিল সংকটাপন্ন। পরে তিনি মারা যান। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) আরব নিউজের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়। এ বিষয়ে ইউসুফের চাচাতো ভাই ও প্রতিবেশী মোহাম্মদ আকবর হাশমি বলেন, ‘ইউসুফের একটি পা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। দ্বিতীয় দিনেই তিনি মারা যান।’
এর আগে, গত ১০ অক্টোবর রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথির ওই হামলায় নিহত ১৩ জনের একজন ছিলেন ইউসুফ। পাশাপাশি এসময় আরও ৩০০ জন আহত হন। ইউসুফ একজন তথ্যপ্রযুক্তি প্রকৌশলী ছিলেন। তিনি সৌদি আরব ও ভারতে কাজ করতেন। এবার দেশে ফিরে তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, পরবর্তী সফরে পুরো পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে যাবেন। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী, ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিলেন ইউসুফ, তার স্ত্রী, দুই ছেলে, মেয়ে ও এক খালা। পরিবারের সবাইকে নিয়ে এটিই ছিল তাদের প্রথম ওমরাহ।
প্রকৌশল বিষয়ে পড়ার জন্য বড় ছেলে ভর্তি পরীক্ষায় সফল হওয়ায় উদযাপন হিসেবেও এই সফরের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। বড় ছেলে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ভর্তি হওয়ার পর ওমরাহর পরিকল্পনা করা হয়েছিল জানিয়ে হাশমি বলেন, ‘এটি ছিল সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি উপায়।’
জানা যায়, ইউসুফের দুই ছেলে এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। মেয়ে ও খালা তুলনামূলক কম আহত হয়েছিলেন। তারা হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। পরিবারের একমাত্র সদস্য হিসেবে ইউসুফের স্ত্রীর হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন হয়নি। হাশমি বলেন, ‘তিনি স্থিতিশীল আছেন এবং হাসপাতালে শিশুদের দেখাশোনা করছেন।’
তিনি উল্লেখ করেন, বড় ছেলের দুই হাঁটুর ক্যাপ প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। পেটে অস্ত্রোপচারও করতে হয়েছে। ভাঙা কাচ পেটের ভেতরে ঢুকে যকৃৎ স্পর্শ করেছিল। তাই তাকে আরও তিন সপ্তাহ হাসপাতালে থাকতে হবে। এরই মধ্যে তাকে ও তার ভাইবোনদের বাবার মৃত্যুর খবর জানানো হয়েছে। তিনি জানান, পুরো পরিবার কী ধরনের মানসিক আঘাতের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তা ভাষায় বর্ণনা করতে পারব না; তারা সবকিছু হারিয়েছে।
সৌদি আরবে হুথির এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে হাশমি বলেন, ‘হুথির সৌদি আরবে এই হামলা ভুল; পুরোপুরি ভুল। বেসামরিক বিমানবন্দর, শপিংমল- এসব স্থানকে লক্ষ্যবস্তু করার কোনো যৌক্তিকতাই থাকতে পারে না।’
প্রতিবেশী দেশের ভূখণ্ড ইরানে হামলায় ব্যবহৃত হলে মার্কিন ঘাঁটিও নিরাপদ থাকবে না: আরাঘচি
সৌদির জুবাইল বন্দরের কাছে তেলবাহী ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত
রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনে নিহত ৮, বিদ্যুৎহীন ১০ লক্ষাধিক মানুষ