হরমুজ প্রণালির তলদেশে থাকা ইন্টারনেট ক্যাবল ধ্বংসের হুমকি দিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। ইরানের অবকাঠামোয় হামলা হলে পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে এসব ক্যাবলকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন বাহিনীটির রাজনৈতিক উপপ্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াদোল্লাহ জাভানি। এর আগে আইআরজিসির মুখপাত্রও হরমুজের তলদেশে থাকা সাতটি গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারনেট ক্যাবলের কথা উল্লেখ করে নতুন লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন।
প্রশ্ন হচ্ছে, সমুদ্রের তলদেশে থাকা এসব ক্যাবল কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা সম্ভব? ইরানের সেই সক্ষমতা কতটা? আর এমন ঘটনা ঘটলে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্ব অর্থনীতি ও ইন্টারনেট যোগাযোগে কী প্রভাব পড়তে পারে?
বিশেষজ্ঞদের প্রকাশিত বিশ্লেষণ বলছে, সমুদ্রের তলদেশের ক্যাবলগুলো ভৌতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা সম্ভব হলেও সেগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা, কার্যকরভাবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা এবং দীর্ঘমেয়াদে নেটওয়ার্ক অচল করে দেওয়া—তিনটি আলাদা বিষয়। ইরানের হুমকি বাস্তবায়িত হবে কি না, কিংবা দেশটির হাতে নির্দিষ্ট ক্যাবলগুলোতে হামলার প্রস্তুতিমূলক সক্ষমতা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রকাশ্য তথ্য থেকে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।
সমুদ্রের তলদেশের ইন্টারনেট ক্যাবল সাধারণ কোনো তার নয়। এগুলো বিশেষভাবে তৈরি ফাইবার-অপটিক ব্যবস্থা, যার মধ্য দিয়ে আলোকসংকেত ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ ডিজিটাল তথ্য আদান-প্রদান করা হয়। সমুদ্রের গভীরতা, ভূপ্রকৃতি ও বাইরের চাপের ওপর নির্ভর করে ক্যাবলগুলোতে বিভিন্ন ধরনের সুরক্ষাব্যবস্থা থাকে।
১. পানির নিচে সরাসরি ভৌত ক্ষতি: সমুদ্রের তলদেশে থাকা ক্যাবলে সরাসরি আঘাত বা ক্ষতি হলে তথ্য পরিবহনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হতে পারে। তবে ক্যাবলের অবস্থান শনাক্ত করা, সমুদ্রের তলদেশে পৌঁছানো এবং সেখানে কাজ পরিচালনা করা প্রযুক্তিগত ও সামরিকভাবে জটিল।
২. সমুদ্রতলভিত্তিক যান বা বিশেষায়িত সরঞ্জামের মাধ্যমে ক্ষতি: পানির নিচে কাজ করতে সক্ষম দূরনিয়ন্ত্রিত বা বিশেষায়িত যান বিভিন্ন সামুদ্রিক অবকাঠামো পরিদর্শন ও রক্ষণাবেক্ষণে ব্যবহৃত হয়। তাত্ত্বিকভাবে এ ধরনের প্রযুক্তি পানির নিচের অবকাঠামোর কাছে পৌঁছাতে পারে। কিন্তু ইরান নির্দিষ্ট ক্যাবল ধ্বংস করতে এমন কোনো অভিযান প্রস্তুত করেছে—এমন নির্ভরযোগ্য প্রকাশ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
৩. সংঘাতের মধ্যে পরোক্ষ ক্ষতি: ক্যাবল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার জন্য সরাসরি ক্যাবলকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোই একমাত্র সম্ভাবনা নয়। সংঘাতের মধ্যে জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, নোঙর টেনে নিয়ে যাওয়া কিংবা সমুদ্রতলে ডুবে যাওয়া বস্তু থেকেও ক্যাবলের ক্ষতি হতে পারে। লোহিত সাগরে ২০২৪ সালে একটি জাহাজের নোঙরের কারণে একাধিক ক্যাবল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা এ ধরনের ঝুঁকির উদাহরণ।
তবে এসব সম্ভাব্য পদ্ধতির উল্লেখ থেকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না যে ইরান ইতিমধ্যে হরমুজের ক্যাবল ধ্বংসের কার্যকর পরিকল্পনা তৈরি করেছে। নির্দিষ্ট ক্যাবলের অবস্থান, দুর্বল স্থান কিংবা হামলা পরিচালনার কার্যকর নির্দেশনা প্রকাশ করাও এই প্রতিবেদনের উদ্দেশ্য নয়।
হরমুজে ঠিক কতটি ক্যাবল রয়েছে?
ইরানি কর্মকর্তারা হরমুজ প্রণালির তলদেশে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারনেট ক্যাবলের কথা বলেছেন। কিন্তু ক্যাবল গণনার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে: কোনো ক্যাবল নেটওয়ার্কের মোট শাখা, পুরো পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের সংযোগ এবং সরাসরি হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করা সক্রিয় ক্যাবল—এসব এক বিষয় নয়।
টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান টেলিজিওগ্রাফির প্রকাশিত তথ্যে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমকারী সক্রিয় ক্যাবল ব্যবস্থার উদাহরণ হিসেবে এশিয়া-আফ্রিকা-ইউরোপ-১ (AAE-1), ফ্যালকন (FALCON) এবং গালফ ব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল ক্যাবল সিস্টেমের (GBICS) নাম উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, প্রণালির ভেতরে ক্যাবলগুলোর পথের বিন্যাস ও বিকল্প সংযোগের সুযোগের ওপর নির্ভর করে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা।
যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কখনো আত্মসমর্পণ করবে না ইরান: আরাঘচি
প্যারা এশিয়ান গেমসে ১০০ মিটারে রেকর্ড গড়লেন ইরানের জারে
হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সামরিক ও গোয়েন্দাদের শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে: আইআরজিসি কমান্ডার