রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইউক্রেনের স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ব্যবহারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা হোয়াইট হাউসের নয়, বরং স্পেসএক্স ও এর প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্কের—এমন মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। বুধবার (২১ অক্টোবর) ভারতের মুম্বাইয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এ অবস্থান জানান।
রুবিওর বক্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন ইউক্রেনের সামরিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা স্টারলিংক সেবার গতি কমিয়ে দেওয়া বা প্রবেশাধিকার সীমিত করার সিদ্ধান্ত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন ও মাস্কের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক চলছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল মঙ্গলবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানায়, রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলায় ইউক্রেন যে সামরিক কাজে ব্যবহারের উপযোগী স্টারলিংক সংস্করণের ওপর নির্ভর করে, সেটির গতি কমানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন মাস্ক।
প্রতিবেদনটিতে একটি সূত্রের বরাতে বলা হয়, সিদ্ধান্তটির আগে মাস্ক, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছিল। আরও দুটি সূত্রের দাবি, সেবার গতি কমানোর পরবর্তী দিনগুলোতে ট্রাম্প ও মাস্কের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে কথা হয়।
তবে স্পেসএক্স ও মাস্ক এ বিষয়ে রয়টার্সের মন্তব্য চেয়ে পাঠানো অনুরোধের জবাব দেননি।
রুবিও বলেন, সিদ্ধান্তটি আগে থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন জানত কি না, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন। তবে তাঁর মতে, স্টারলিংক কীভাবে ব্যবহার করা যাবে এবং কী গতিতে সেবা দেওয়া হবে, তা নির্ধারিত হয় বেসরকারি বাণিজ্যিক চুক্তি ও সেবার শর্ত অনুযায়ী।
এর আগে রয়টার্স যুক্তরাষ্ট্রের দুজন কর্মকর্তা এবং বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত একজন পশ্চিমা কর্মকর্তার বরাতে জানিয়েছিল, স্টারলিংকের গতি কমানোর সিদ্ধান্তটি শেষ পর্যন্ত হোয়াইট হাউস থেকেই এসেছিল। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও এমন দাবি করেছিলেন। তবে মার্কিন প্রশাসন তা অস্বীকার করেছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রকাশ্যে বলেছেন, তিনি মনে করেন না যে তিনি বা মাস্ক এ সিদ্ধান্তের জন্য দায়ী। অন্যদিকে, রুবিও এর আগে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কেউ স্টারলিংকের গতি কমানোর নির্দেশ দেননি এবং তাঁর ধারণা, সেবাটি আবার স্বাভাবিক করা হয়েছে।
মঙ্গলবার পেন্টাগনপ্রধান পিট হেগসেথও বিষয়টিকে বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত হিসেবে তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য, স্টারলিংকের ব্যবহারের ক্ষেত্রে সেবার শর্ত মানতে হয় এবং এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ কোম্পানিটির রয়েছে।
বিতর্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো স্টারলিংক ও স্টারশিল্ডের পার্থক্য। স্টারলিংক সাধারণভাবে স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সেবা দেয়। অন্যদিকে, স্টারশিল্ড হলো স্পেসএক্সের তৈরি প্রতিরক্ষা ও সরকারি কাজে ব্যবহারের উপযোগী স্যাটেলাইটভিত্তিক ব্যবস্থা, যা মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের প্রয়োজন মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছে।
রুবিও এর আগে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ইউক্রেন শুরু থেকেই স্টারশিল্ড ব্যবহারের সুযোগ পায়নি। কিন্তু জেলেনস্কির দাবি, ইউক্রেনের মতো যুদ্ধে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট যোগাযোগ, সেনাদের মধ্যে সমন্বয় এবং মাঠপর্যায়ের তথ্য আদান-প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ ধরনের সেবার প্রবেশাধিকার বা গতি পরিবর্তিত হলে সামরিক কার্যক্রমেও প্রভাব পড়তে পারে।
এ কারণে একটি বেসরকারি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত কীভাবে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিকে প্রভাবিত করতে পারে, তা নিয়ে ওয়াশিংটনে উদ্বেগ বাড়তে পারে বলে মনে করছে রয়টার্স।
তবে স্টারলিংকের গতি কমানোর সিদ্ধান্তে কার চূড়ান্ত ভূমিকা ছিল, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য পরস্পরবিরোধী। তাই হোয়াইট হাউসের সরাসরি নির্দেশ, মাস্কের একক সিদ্ধান্ত এবং বাণিজ্যিক চুক্তির শর্ত—এই তিনটির মধ্যে প্রকৃত সম্পর্ক নির্ধারণে আরও স্পষ্ট তথ্য প্রয়োজন।
সূত্র: রয়টার্স
কিম জং উনের মৃত্যুর গুজব বারবার ছড়ায় কেন?
ইতালিতে বিক্ষোভ দমনে পুলিশের ভূমিকা তদন্তের আহ্বান ইরানের
তরুণ প্রজন্মকে সত্য, ন্যায় ও মানবিকতার পক্ষে সোচ্চার থাকতে হবে: রাষ্ট্রপতি