ফ্রান্স নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য ‘অগ্রহণযোগ্য ও নির্বুদ্ধিতাপূর্ণ’: ম্যাক্রোঁ

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৩ এএম

ফ্রান্সে বিক্ষোভ ও সহিংসতার জন্য অভিবাসীদের দায়ী করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।

তিনি বলেছেন, ফ্রান্সের উত্তেজনাপূর্ণ সামাজিক পরিস্থিতিকে রাজনৈতিক স্বার্থে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছেন কিছু বিদেশি নেতা। তাঁদের মধ্যে আটলান্টিকের অপর প্রান্তের নেতারাও রয়েছেন।

বুধবার (২১ অক্টোবর) ম্যাক্রোঁ বলেন, গত সপ্তাহান্তে প্যারিসসহ ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনার পর দেশটিকে নিয়ে বিদেশ থেকে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়েছে। এর জেরে অনেকের কাছ থেকে এমন কিছু মন্তব্য এসেছে, যা একই সঙ্গে অগ্রহণযোগ্য ও নির্বুদ্ধিতাপূর্ণ।

সাংবাদিকেরা জানতে চান, তিনি ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে এ কথা বলেছেন কি না। জবাবে ম্যাক্রোঁ বলেন, ট্রাম্পসহ আরও কয়েকজনের কথা তিনি বলেছেন।

ফ্রান্স অভিবাসী ও ইসলামপন্থীদের দখলে চলে যাচ্ছে—ট্রাম্পের এমন বক্তব্যও প্রত্যাখ্যান করেন ম্যাক্রোঁ। তিনি বলেন, এ ধরনের দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা। ফ্রান্সে এমন কিছু ঘটেছে বলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ছবি ছড়ানো হচ্ছে, যেখানে এমন ঘটনার দৃশ্য দেখানো হয়েছে, যা বাস্তবে ঘটেনি।

ম্যাক্রোঁ বলেন, কিছু মানুষ দাবি করছেন, অভিবাসী ও ইসলামপন্থীদের বিশাল দল ফ্রান্সে ঢুকে পড়েছে। কিন্তু এ বক্তব্যের কোনো সত্যতা নেই।

ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারো বলেন, বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিত্তিহীন দাবি প্রচার থেকে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে বিরত রাখতে তাঁর দপ্তর প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা দিতে প্রস্তুত।

ম্যাক্রোঁ আরও বলেন, যারা বর্তমানে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে নেতিবাচক কথা বলছেন, তাঁরা দেশটির মঙ্গল চান না। নির্বাচনী প্রচারের মধ্যে থাকা কিছু নেতা এআই দিয়ে তৈরি বিষয়বস্তু যাচাই না করেই প্রচার করছেন অথবা নির্দিষ্ট কিছু মহলের ছড়ানো বয়ান পুনরাবৃত্তি করছেন। এর মাধ্যমে তাঁরা ফ্রান্সকে নিজেদের রাজনৈতিক প্রচারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন। এমনটি ফ্রান্সের প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে উপসাগরীয় দেশগুলো সফরের শেষ পর্যায়ে কাতারে ম্যাক্রোঁ জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে প্রতি মাসে এক লাখ মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহের বিষয়ে ফ্রান্স সমঝোতায় পৌঁছেছে। একই পরিমাণ ডিজেল বাহরাইন থেকেও সরবরাহের চুক্তি চূড়ান্ত করার প্রত্যাশা রয়েছে।

ফ্রান্সের অস্থিরতার জন্য অভিবাসনকে দায়ী ট্রাম্পের

সোমবার ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প ফ্রান্সের সাম্প্রতিক বিক্ষোভ ও সহিংসতার জন্য অভিবাসনকে দায়ী করেন। তাঁর দাবি, দেশটির অস্থিরতার সঙ্গে শিক্ষা বা অন্য কোনো বিষয়ের সম্পর্ক নেই; এর মূল কারণ অভিবাসন। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফ্রান্সের সীমান্ত বন্ধ করার জন্য ম্যাক্রোঁকে পরামর্শ দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি অনেক আগেই ম্যাক্রোঁকে সতর্ক করেছিলেন যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মানুষকে ফ্রান্সে প্রবেশ করতে দেওয়াটা বড় ভুল। তাঁর আশঙ্কা, খুব শিগগিরই প্যারিস মুসলিম-অধ্যুষিত শহরে পরিণত হবে।

ইউরোপ সীমান্ত বন্ধ করে অপরাধীদের বের করে না দিলে মহাদেশটি বিপর্যয়ের মুখে পড়বে বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প।

এর আগে রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ফ্রান্স জ্বলছে। তাঁর দাবি, ভিন্ন সংস্কৃতির দেশগুলো থেকে আসা বিদ্বেষপূর্ণ মনোভাবের মানুষদের অভিবাসন একসময় সমৃদ্ধ দেশটিকে বিপর্যস্ত করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আগেই সীমান্ত বন্ধ করার আহ্বানও জানান তিনি।

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি থেকে বিক্ষোভের সূত্রপাত

ফ্রান্সে সাম্প্রতিক বিক্ষোভের সূচনা হয় শিক্ষার্থীদের দাবিকে কেন্দ্র করে। তাঁরা আরও শিক্ষক নিয়োগ এবং বিদ্যালয়ের পরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধার উন্নতি চেয়েছিলেন। পরে এই আন্দোলনে শ্রমিক সংগঠন এবং জীবনযাত্রার ব্যয় ও সরকারি পরিষেবা নিয়ে উদ্বিগ্ন মানুষও যুক্ত হন।

উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছিল। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, বিক্ষোভে অংশ নেন প্রায় পাঁচ লাখ ৫০ হাজার মানুষ। অন্যদিকে শ্রমিক সংগঠন সিজিটি দাবি করেছে, অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল আট লাখ।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা বিক্ষোভকারীদের দাবির মূল বিষয় ছিল নিত্যপণ্যের দাম, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং সরকারি পরিষেবা। অভিবাসনবিরোধী দাবি এসব বিক্ষোভের প্রধান বিষয় ছিল না।

সূত্র: এনডিটিভি

ওয়াইএ
আরও পড়ুন