মালদ্বীপে অবস্থানরত বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশির পাঠানো রেমিট্যান্স বৈধ উপায়ে দেশে আনা সহজ করতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। দেশটিতে দেশীয় ব্যাংকের শাখা স্থাপন এবং বিকল্প মুদ্রা নিষ্পত্তি ব্যবস্থা চালুর জোর চেষ্টা চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
সম্প্রতি এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চেয়ে মালদ্বীপ মনিটারি অথরিটির (এমএমএ) গভর্নরের কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর। উদ্যোগটি ত্বরান্বিত করতে মালদ্বীপের বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ইতিমধ্যে ভার্চুয়াল আলোচনাও সম্পন্ন হয়েছে।
বাংলাদেশি প্রবাসীদের সুবিধার কথা চিন্তা করে ইতোমধ্যে ব্র্যাক ব্যাংক ও ন্যাশনাল ব্যাংকসহ একাধিক বেসরকারি ব্যাংক মালদ্বীপে কার্যক্রম শুরু করার সম্ভাব্যতা পরীক্ষা করেছে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের ব্যাংকিং সেবা সেখানে সচল থাকায় বাংলাদেশও আত্মবিশ্বাসী।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত অর্থবছরে মালদ্বীপ থেকে রেমিট্যান্স প্রবাহে প্রায় ১৬.৪ শতাংশ ঘাটতি দেখা গেছে। বৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত খরচ ও ডলার কেনাবেচার নানা জটিলতাই এই পতনের মূল কারণ।
প্রবাসীদের এই ভোগান্তি কমাতে এবং হুন্ডির দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে বাংলাদেশ ব্যাংক তিনটি সুনির্দিষ্ট বিকল্প প্রস্তাব পাঠিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে এশীয় ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (এসিইউ) মাধ্যমে লেনদেন, রুফিয়া ভিত্তিক কার্ড সেবা এবং দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় ‘কারেন্সি সোয়াপ’ ব্যবস্থা।
বর্তমানে মালদ্বীপে এক লাখেরও বেশি নিবন্ধিত বাংলাদেশি শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন, যা দেশটির মোট বিদেশি কর্মীর অর্ধেকেরও বেশি। এত বড় একটি গোষ্ঠীর জন্য সরাসরি ব্যাংকিং সুবিধা না থাকায় তারা অনানুষ্ঠানিক উপায়ে টাকা পাঠাতে বাধ্য হন।
উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে ডলার সংক্রান্ত রূপান্তর ব্যয় কমে যাবে এবং প্রবাসীরা কম খরচে সরাসরি টাকা পাঠাতে পারবেন। চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য শিগগিরই দুই দেশের যৌথ প্রতিনিধি দলের সরাসরি আলোচনার পরিকল্পনা রয়েছে।
৫১তম বিসিএসে আবেদন ১৫ হাজার ছাড়াল
টাইগার শ্রফের ওপর হামলার নেপথ্যে নিখুঁত পরিকল্পনা, গ্রেপ্তার ১০