ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পতন হলে পশ্চিমাদের জন্য ৮ বিপর্যয়ের আশঙ্কা

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৫ পিএম

ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পতন ঘটলে দেশটির ভবিষ্যৎ কী হবে? এই প্রশ্নকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্বের জন্য সম্ভাব্য আটটি বিপর্যয়ের আশঙ্কা তুলে ধরেছেন ইরানি লেখক আহমাদজাদেহ হাজ হাবিব। তেহরান থেকে ২৬ অক্টোবর প্রকাশিত মেহর নিউজ এজেন্সি-র একটি মতামতধর্মী লেখায় তিনি দাবি করেছেন, ইরানে সামরিক আগ্রাসন কিংবা সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা শেষ পর্যন্ত পশ্চিমাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকট ডেকে আনতে পারে।

লেখাটির মূল বক্তব্য হলো- কোনো রাষ্ট্রের সরকারকে সামরিক শক্তিতে উৎখাত করা গেলেও সেই রাষ্ট্রের জনগণের প্রতিরোধ, জাতীয়তাবাদী অনুভূতি ও আঞ্চলিক সম্পর্ককে সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। তবে লেখকের উত্থাপিত বিভিন্ন পরিণতি পূর্বাভাস ও রাজনৈতিক মূল্যায়ন; এগুলোকে নিশ্চিতভাবে ঘটবে এমন তথ্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

লেখার শুরুতে লেখক ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় এক বন্ধুর বাবার বলা একটি বাক্যের স্মৃতিচারণ করেছেন- পৃথিবীতে যত দিন ঈশ্বর ও পৃথিবী থাকবে, তত দিন নির্বোধ মানুষও থাকবে। তার মতে, বহু বছর পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে না জড়ানোর পরামর্শ দিয়ে লেখা একটি খোলা চিঠির জবাবে দার্শনিক ও ভাষাবিদ নোয়াম চমস্কির মন্তব্যেও একই ধরনের উপলব্ধি প্রতিফলিত হয়েছিল।

লেখকের অভিযোগ, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও ট্রাম্প আবারও ইরানে হামলার পরিস্থিতি তৈরি করছেন। তিনি তাদের যথাক্রমে পিনোকিও গল্পের ধূর্ত শিয়াল ও অযৌক্তিক গাধার সঙ্গে তুলনা করেছেন। এটি লেখকের রাজনৈতিক উপমা, নিরপেক্ষ মূল্যায়ন নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের ‘যুদ্ধ ছাড়াই বিজয়’ ধারণার প্রসঙ্গ টেনে লেখক বলেন- প্রতিপক্ষকে এমন দ্বিধায় ফেলা উচিত নয়, যেখানে তার সামনে থাকা দুই পথই পরাজয়ের দিকে নিয়ে যায়। তার দাবি, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানো কিংবা দেশটির সঙ্গে সমঝোতার পথ বেছে নেওয়া উভয় ক্ষেত্রেই ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য ব্যয়বহুল পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তবে কোন পথের বাস্তব ফল কী হবে, তা নির্ভর করবে সংঘাতের প্রকৃতি, সামরিক সক্ষমতা, কূটনীতি ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সিদ্ধান্তের ওপর।

১. সরকারবিরোধীদের প্রত্যাশা ও বাস্তবতার সংঘাত

লেখকের প্রথম আশঙ্কা- ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পতন ঘটলে ইরানের সরকারবিরোধী জনগোষ্ঠীর একাংশ স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রত্যাশা করলেও বিদেশি শক্তির প্রভাবাধীন রাষ্ট্রব্যবস্থার ঝুঁকি সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন নাও থাকতে পারে।

তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সম্পদ ও রাজস্বের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারে এবং দেশটির অর্থনীতি বিদেশি স্বার্থের অধীন হয়ে পড়তে পারে। এ পরিস্থিতিতে সরকার পরিবর্তনের পক্ষে থাকা মানুষের একাংশ হতাশ হয়ে পুরোনো রাজনৈতিক ব্যবস্থার সমর্থকদের সঙ্গে আবারও একাত্ম হতে পারেন বলেও তিনি পূর্বাভাস দিয়েছেন। তবে ইরানের সরকার পতন ঘটলে দেশটির সম্পদ যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে কিংবা এক বছরের মধ্যে বিরোধীদের বড় অংশ পুরোনো ব্যবস্থার পক্ষে ফিরে আসবে এমন দাবির পক্ষে লেখাটিতে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ দেওয়া হয়নি।

২. প্রতিশোধপরায়ণ নতুন নেতৃত্বের উত্থান

লেখকের দ্বিতীয় আশঙ্কা- ইরানের ভূখণ্ডে বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপ ঘটলে তা দেশটির জনগণের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষোভ ও প্রতিশোধস্পৃহা তৈরি করতে পারে। তার মতে, ভবিষ্যতে ক্ষমতায় আসা কোনো নতুন নেতৃত্ব বর্তমান ব্যবস্থার চেয়েও কঠোর ও সহিংস নীতি গ্রহণ করতে পারে। তিনি ইরানের ইতিহাসে বিদেশি হস্তক্ষেপের স্মৃতি, ১৯৫৩ সালে প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ মোসাদ্দেকের সরকার উৎখাত এবং শিয়া ঐতিহ্যে কারবালার ঘটনাকে জনগণের রাজনৈতিক স্মৃতির গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

লেখকের ধারণা, বিদেশি আগ্রাসনের অভিজ্ঞতা ইরানের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের প্রশ্নেও আরও কঠোর অবস্থানে নিয়ে যেতে পারে। তবে এটি তার সম্ভাব্য পরিস্থিতি সম্পর্কে অনুমান; ইরানের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব কী সিদ্ধান্ত নেবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যায় না।

৩. দীর্ঘস্থায়ী গেরিলা প্রতিরোধের ঝুঁকি

তৃতীয় আশঙ্কায় লেখক দাবি করেছেন- ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পতন ও বিদেশি দখলদারত্ব প্রতিষ্ঠিত হলে ইরানে ব্যাপক গেরিলা প্রতিরোধ শুরু হতে পারে। তার লেখায় ৩ কোটি ৫০ লাখ স্বেচ্ছাসেবীর অংশগ্রহণের কথা বলা হয়েছে। লেখক ইরাকের অতীতের সশস্ত্র বিদ্রোহের সঙ্গে তুলনা করে বোঝাতে চেয়েছেন, ইরানের ভৌগোলিক আয়তন, জনসংখ্যা, রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রতিরোধের ঐতিহ্য বিদেশি বাহিনীর জন্য দীর্ঘমেয়াদি সামরিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

তবে ৩ কোটি ৫০ লাখ মানুষ সশস্ত্র প্রতিরোধে অংশ নেবেন, এই সংখ্যার পক্ষে লেখাটিতে কোনো যাচাইযোগ্য পরিসংখ্যান বা স্বাধীন সূত্র উল্লেখ করা হয়নি। ফলে সংখ্যাটিকে প্রতিষ্ঠিত তথ্যের বদলে লেখকের দাবি হিসেবেই বিবেচনা করা উচিত।

৪. উপসাগরীয় অঞ্চলের অবকাঠামো ও জ্বালানি নিরাপত্তা

লেখকের চতুর্থ আশঙ্কা- ইরানের ওপর আক্রমণ বা দেশটির ভূখণ্ড দখলের চেষ্টা সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করতে পারে। তিনি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে সহায়তাকারী দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলার পরিকল্পনা থাকতে পারে। এ ক্ষেত্রে তিনি সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর স্থাপনা, ইসরায়েলের পানি লবণমুক্তকরণ কেন্দ্র এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের সমুদ্রতলের ইন্টারনেট কেবলের কথা উল্লেখ করেছেন। তার মতে, এসব স্থাপনায় বড় ধরনের ক্ষতি হলে জ্বালানি সরবরাহ, পানির নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগব্যবস্থা একযোগে বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহন ব্যাহত হওয়া এবং ইয়েমেনের হুতিদের হামলার মতো ঝুঁকির সঙ্গে এ ধরনের অবকাঠামোগত ক্ষতি যুক্ত হলে আঞ্চলিক সংকট আরও জটিল হতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তবে এসব স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হবে কি-না, কিংবা কোনো নির্দিষ্ট স্থাপনা ধ্বংস হবে কি-না, লেখাটি তার স্বাধীন প্রমাণ দেয় না। এগুলো সম্ভাব্য সংঘাতের পরিণতি সম্পর্কে লেখকের সতর্কবার্তা।

৫. ধর্মীয় ও আঞ্চলিক সংহতির বিস্তার

পঞ্চম পয়েন্টে লেখক শিয়া মুসলিমদের ধর্মীয় স্মৃতি ও আন্তদেশীয় সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তিনি ইরাকের কারবালায় প্রতিবছর অনুষ্ঠিত আরবাইন পদযাত্রার কথা উল্লেখ করেছেন, যেখানে ইরানসহ বিভিন্ন দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। লেখকের বক্তব্য, ইরান ও ইরাকের জনগণ যদি বিদেশি দখলদারত্বের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন, তাহলে সেই অভিজ্ঞতা ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সংহতিকে আরও জোরদার করতে পারে। তার আশঙ্কা, এ ধরনের সংহতি পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলোর বিরুদ্ধে বৃহত্তর প্রতিরোধের রূপ নিতে পারে।

তবে ধর্মীয় সংহতি সব সময় একই ধরনের রাজনৈতিক বা সামরিক অবস্থানে রূপ নেয় না। বিভিন্ন দেশের জনগোষ্ঠী, সরকার ও ধর্মীয় নেতৃত্বের স্বার্থ ও দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। তাই লেখকের আশঙ্কাকে সম্ভাব্য রাজনৈতিক পরিস্থিতির একটি ব্যাখ্যা হিসেবে দেখা প্রয়োজন।

৬. ব্যাপক অভিবাসনের চাপ

লেখকের ষষ্ঠ আশঙ্কা- ইরানে বড় ধরনের যুদ্ধ বা রাষ্ট্রীয় কাঠামোর পতন ঘটলে ইরান, ইরাক এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্য দেশগুলো থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ পশ্চিমা দেশগুলোর দিকে অভিবাসনের চেষ্টা করতে পারেন। এ ধরনের পরিস্থিতিতে আশ্রয়, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, আবাসন, কর্মসংস্থান এবং জনসেবার ওপর চাপ বাড়তে পারে। একই সঙ্গে সংঘাতের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের মানবিক নিরাপত্তাও বড় উদ্বেগ হয়ে উঠবে।

তবে লেখকের ‘লক্ষাধিক মানুষের ঢল’ সম্পর্কিত বক্তব্যের পক্ষে নির্দিষ্ট পূর্বাভাস, জনসংখ্যাগত হিসাব বা অভিবাসন-বিষয়ক স্বাধীন বিশ্লেষণ দেওয়া হয়নি। বাস্তবে অভিবাসনের মাত্রা নির্ভর করবে যুদ্ধের বিস্তার, নিরাপদ আশ্রয়ের সুযোগ, সীমান্তনীতি এবং আন্তর্জাতিক সহায়তার ওপর।

৭. জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও পশ্চিমা অর্থনীতির অস্থিরতা

সপ্তম পয়েন্টে লেখক ইরানের সাবেক পারমাণবিক আলোচক সাঈদ জালিলির সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের তৎকালীন পররাষ্ট্র-বিষয়ক প্রতিনিধি ক্যাথরিন অ্যাশটনের একটি কথোপকথনের উল্লেখ করেছেন। তার বর্ণনা অনুযায়ী, জালিলি একসময় সতর্ক করেছিলেন যে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত থাকলে পশ্চিমা দেশগুলোতে পেট্রলের দাম গ্যালনপ্রতি দুই ডলার বাড়িয়ে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

লেখকের যুক্তি, ইরানের জনগণ দীর্ঘদিন নিষেধাজ্ঞা ও মূল্যস্ফীতির সঙ্গে মানিয়ে নিলেও পশ্চিমা দেশের জনগণের জন্য জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন সংঘাত শুরু হলে জ্বালানি সরবরাহ, পরিবহনব্যয়, মূল্যস্ফীতি এবং জনঅসন্তোষ একে অন্যকে প্রভাবিত করতে পারে বলেও তিনি মনে করেন। তবে জালিলি ও অ্যাশটনের কথোপকথনের এই বর্ণনা লেখাটিতে স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। একইভাবে জ্বালানির দাম বাড়লে ইউরোপে ব্যাপক বিদ্রোহ ঘটবে, এমন পূর্বাভাসকেও নিশ্চিত ফল হিসেবে ধরে নেওয়া যায় না।

৮. বিদেশি সৈন্য ও তাদের পরিবারের ওপর যুদ্ধের মূল্য

অষ্টম আশঙ্কায় লেখক বলেছেন- ইরানের ভূখণ্ডে বিদেশি দখলদারত্ব প্রতিষ্ঠিত হলে সংঘাতের মানবিক ও রাজনৈতিক মূল্য বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে। তার মতে, বিদেশি বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ শুধু সামরিক লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ থাকবে না; এতে সৈন্যদের প্রাণহানি, তাদের পরিবারের দুর্ভোগ এবং সংশ্লিষ্ট দেশের জনগণের মধ্যে যুদ্ধবিরোধী মনোভাবও বাড়তে পারে। তিনি অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের লাভ সামরিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী গোষ্ঠীগুলোর হাতে যেতে পারে, অথচ এর মূল্য বহন করবেন সাধারণ মানুষ ও সেনাসদস্যরা।

লেখক ভিয়েতনাম যুদ্ধের অভিজ্ঞতার সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের তুলনা করেছেন। তবে ভবিষ্যতের কোনো যুদ্ধের জনসমর্থন বা রাজনৈতিক প্রভাব ভিয়েতনাম যুদ্ধের চেয়েও বেশি হবে কি-না, তা নির্ভর করবে যুদ্ধের পরিস্থিতি, প্রাণহানি, অর্থনৈতিক ব্যয় এবং সংশ্লিষ্ট সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর।

‘শত্রুর জন্য ফেরার পথ খোলা রাখা’ কূটনীতির শিক্ষা

লেখার শেষাংশে লেখক চীনা সামরিক চিন্তাবিদ সান জুর দ্য আর্ট অব ওয়ার বইয়ের একটি বহুল প্রচলিত নীতির উল্লেখ করেছেন- শত্রুকে পুরোপুরি ঘিরে না ফেলে তার পিছু হটার একটি পথ খোলা রাখা উচিত। তার বক্তব্য, প্রতিপক্ষের সামনে সব পথ বন্ধ করে দিলে সে শেষ পর্যন্ত মরিয়া হয়ে লড়াই করতে পারে। লেখক মনে করেন, ইরানের ক্ষেত্রে সামরিক চাপ, দখলদারত্ব কিংবা রাজনৈতিক নেতৃত্ব উৎখাতের চেষ্টা দেশটির প্রতিরোধকে আরও কঠোর করে তুলতে পারে। তার মতে, ট্রাম্প যদি কূটনৈতিকভাবে সম্মানজনক সমাধানের সুযোগ তৈরি না করেন, তাহলে সংঘাতের ব্যয় আরও বাড়তে পারে।

তিনি আরও দাবি করেছেন, শিয়া জনগোষ্ঠীর একটি অংশ নিজেদের দেশ ও ধর্মীয় পরিচয় রক্ষার প্রশ্নে ব্যক্তিগত জীবনের ঝুঁকি নিতেও প্রস্তুত থাকতে পারেন। তবে কোনো ধর্মীয় জনগোষ্ঠীকে একক মনোভাবের অধিকারী হিসেবে বিবেচনা করা যথাযথ নয়; ব্যক্তির রাজনৈতিক অবস্থান, সামাজিক অভিজ্ঞতা ও সিদ্ধান্তে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য থাকতে পারে।

শেষ কথা: সরকার পতন আর রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ এক নয়

লেখাটির মূল সতর্কবার্তা হলো- একটি সরকারের পতন ঘটানো এবং পরবর্তী রাষ্ট্রব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখা সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। সামরিক অভিযান কোনো রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করলেও তার পরবর্তী সময়ে নিরাপত্তা, প্রশাসন, অর্থনীতি, অবকাঠামো ও জনসমর্থন ধরে রাখা কঠিন হয়ে উঠতে পারে। ইরাকের অতীত অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, যুদ্ধের পর রাষ্ট্র পুনর্গঠন দীর্ঘ ও জটিল প্রক্রিয়া হতে পারে। তবে ইরানের ভবিষ্যৎকে ইরাকের অভিজ্ঞতার সঙ্গে পুরোপুরি এক করে দেখা যায় না; দেশ দুটির রাজনৈতিক কাঠামো, সমাজ, ইতিহাস ও আঞ্চলিক অবস্থানের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।

আহমাদজাদেহ হাজ হাবিবের লেখাটি ইরানের সম্ভাব্য পতনের পর পশ্চিমা বিশ্বের জন্য তৈরি হতে পারে এমন ঝুঁকির একটি তীব্র রাজনৈতিক ভাষ্য। এতে উত্থাপিত আশঙ্কাগুলোর কিছু বাস্তব নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক প্রশ্নের সঙ্গে সম্পর্কিত হলেও নির্দিষ্ট সংখ্যা, সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে অনেক বক্তব্যই প্রমাণিত তথ্য নয়। সুতরাং লেখাটিকে নিশ্চিত ভবিষ্যদ্বাণী হিসেবে নয়, বরং ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসন ও সরকার পরিবর্তনের প্রচেষ্টার সম্ভাব্য মূল্য নিয়ে একজন ইরানি লেখকের রাজনৈতিক সতর্কবার্তা হিসেবেই যুক্তিযুক্ত।

জেএম
আরও পড়ুন