ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতির কারণে ১৯৭৩ সালের ঐতিহাসিক ভোটদানের হারও ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সাবেক সহযোগী ও নির্বাচনী জরিপকারী মিচেল বারাক এমন পূর্বাভাস দিয়েছেন।
আলজাজিরাকে পশ্চিম জেরুজালেম থেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বারাক বলেন, নির্বাচনে ভোটদানের হার অনেক বেশি এবং এটি ইতিবাচক। ১৯৭৩ সালে ইসরায়েল যখন বড় ধরনের যুদ্ধে জড়িত ছিল, তখনও দেশটিতে উল্লেখযোগ্য ভোটার উপস্থিতি দেখা গিয়েছিল। এবার সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
বারাকের মতে, ভোটার উপস্থিতি বেশি হলে ক্ষমতাসীন দলগুলো সুবিধা পেতে পারে। কারণ, ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে আসন পেতে কোনো দলকে মোট ভোটের অন্তত ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ পেতে হয়। ভোটের সংখ্যা বেড়ে গেলে এই ন্যূনতম সীমা অতিক্রম করতে প্রয়োজনীয় ভোটের সংখ্যাও বাড়বে। এতে ছোট দলগুলোর জন্য সংসদে প্রবেশের প্রতিযোগিতা কঠিন হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ভোটারদের আলোচনায় নিরাপত্তা ও পরিবর্তনের বিষয় দুটি গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে এই দুই ইস্যুতে ভোটারদের অবস্থান এক নয়। কেউ পরিবর্তনের জন্য বিরোধী দলগুলোর দিকে ঝুঁকছেন, আবার কেউ ডানপন্থী সাবেক জেনারেল ওফের উইন্টারের নেতৃত্বাধীন আমচা ইসরায়েল পার্টির প্রতি আগ্রহী।
বারাকের ভাষ্য অনুযায়ী, আমচা ইসরায়েল ও সংরক্ষিত সেনাসদস্যদের দল হা-মিলুইমনিকিম—দুটি দলই নির্বাচনের পর উভয় পক্ষের সঙ্গে সমঝোতার সুযোগ রেখেছে। ফলে তারা সরকার গঠনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অর্থাৎ, কোনো বড় দল এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারলে ছোট দলগুলোর সমর্থন সরকার গঠনের সমীকরণ বদলে দিতে পারে।
ইসরায়েলের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি বাড়লেও শেষ পর্যন্ত কোন দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে, তা নির্ভর করবে ভোটের ফলাফল এবং দলগুলোর পারস্পরিক সমঝোতার ওপর।
সূত্র: আলজাজিরা; প্রতিবেদন: সাইমন স্পিকম্যান কর্ডাল
ইসরায়েলে সেনাসদস্যদের ভোটদানের হার ২০২২ সালের চেয়ে বেশি
আবার যুদ্ধ শুরু হলে, ‘বিশ্বকে জ্বালিয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি ইরানের এমপির’