ইসরায়েলে প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন অনেক আরব নাগরিক

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১৯ পিএম

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে এবার প্রথমবারের মতো ভোট দিয়েছেন দেশটির আরব সম্প্রদায়ের অনেক নাগরিক। অপরাধ বৃদ্ধি, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বর্তমান সরকারের প্রতি অসন্তোষ তাঁদের ভোটকেন্দ্রমুখী করেছে বলে জানিয়েছেন কয়েকজন ভোটার। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) আরব অধ্যুষিত কালানসাওয়া শহরের একটি ভোটকেন্দ্র ঘুরে এমন চিত্র তুলে ধরেছে দ্য টাইমস অব ইসরায়েল।

শহরটির ইবনে রুশদ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্রে ৪০ বছর বয়সী আহমাদ মাতানা জীবনে প্রথমবারের মতো নেসেট নির্বাচনে ভোট দেন। পেশায় আসবাবপত্র ব্যবসায়ী মাতানা জানান, তিনি আরবপন্থী রা’আম পার্টিকে ভোট দিয়েছেন। দলটি আগামী সরকারে অংশ নেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।

কেন এবার ভোট দিতে এলেন-এমন প্রশ্নে মাতানা বলেন, ‘সবকিছু মিলিয়ে আমরা পরিবর্তন চাই।’ তাঁর ভাষায়, আমরা একটি স্বাভাবিক সরকার চাই। ইহুদি হোক কিংবা আরব-তাতে কিছু যায় আসে না। আমরা শান্তিতে বসবাস করতে চাই। এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

মাতানা জানান, তাঁর কয়েকজন বন্ধুও এবার প্রথমবার ভোট দিয়েছেন। তাঁদের কেউ রা’আম পার্টিকে, আবার কেউ জয়েন্ট লিস্টকে সমর্থন করেছেন।

একই শহরের ২৬ বছর বয়সী রানা নামের এক নারীও জীবনে প্রথমবার ভোট দিয়েছেন। আরব সম্প্রদায়ের মধ্যে অপরাধের ঘটনা ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় এবার ভোট দেওয়াকে জরুরি মনে করেছেন তিনি। রানা বলেন, ‘এবার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।’ তিনি জয়েন্ট লিস্টকে ভোট দিয়েছেন, যদিও তাঁর পরিবারের অধিকাংশ সদস্য রা’আম পার্টির সমর্থক।

ভোটকেন্দ্রের বাইরে কয়েকজন কিশোরকে রা’আম ও জয়েন্ট লিস্টের নির্বাচনী পতাকা নিয়ে ঘুরতে দেখা যায়। একটি বাইসাইকেলে দুই দলের পতাকার পাশাপাশি অন্য একটি দলের স্টিকারও ছিল। ছবি তোলার আগে ওই কিশোর স্টিকারটি খুলে ফেলে।

এদিকে, কালানসাওয়ার উপমেয়র ও রা’আম পার্টির সদস্য আফিফ জায়ুসি আরব ভোটারদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, গত চার বছর ধরে বর্তমান সরকারের অধীনে আরব সম্প্রদায়কে অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, সরকারটি অত্যন্ত বর্ণবাদী ছিল।

জায়ুসি আরব ভোটারদের প্রথমে রা’আম এবং তা সম্ভব না হলে জয়েন্ট লিস্টকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। নির্বাচনে আরব নাগরিকদের অংশগ্রহণ ও পরিবর্তনের প্রত্যাশা দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

সূত্র: দ্য টাইম্স অব ইসরাইল 

এটিটিআর
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত