যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘নির্বাচন চুরি’সংক্রান্ত অভিযোগ নতুন কিছু নয়। তবে হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর তাঁর এসব বক্তব্য বাস্তবে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে নির্বাচনে তাঁর দল পিছিয়ে পড়লে ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করা কিংবা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের চেষ্টা হতে পারে কি না, সে প্রশ্ন সামনে এসেছে।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প আবার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর নির্বাচনে রিপাবলিকানরা পিছিয়ে থাকলে তিনি পুনরায় ফলাফল পাল্টে দেওয়ার চেষ্টা করবেন কি না, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছিলেন ডেমোক্র্যাটরা, নির্বাচন কর্মকর্তারা এবং ভোটাধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন।
প্রতিবেদনের ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি এখন আর নিছক অনুমান বা কাল্পনিক আশঙ্কার পর্যায়ে নেই। তবে কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তার আইনগত ভিত্তি কী এবং নির্বাচনের ফলাফলে তার প্রভাব কতটা—এসব নির্দিষ্ট তথ্য যাচাই করে দেখা জরুরি।
২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজয়ের পর ট্রাম্প ব্যাপক নির্বাচনী জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছিলেন। তবে তাঁর অভিযোগের পক্ষে এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি, যা নির্বাচনের সামগ্রিক ফলাফল বদলে দেওয়ার মতো অনিয়ম প্রতিষ্ঠা করে। বিভিন্ন আদালতেও তাঁর নির্বাচনী চ্যালেঞ্জগুলো প্রত্যাখ্যাত হয়।
২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি কংগ্রেসে নির্বাচনী ফল অনুমোদনের প্রক্রিয়া চলাকালে ট্রাম্পের সমর্থকেরা ক্যাপিটল ভবনে হামলা চালান। ওই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে।
নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও ভোটাধিকারকর্মীদের উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দু শুধু ট্রাম্পের বক্তব্য নয়; বরং প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাঁর হাতে থাকা নির্বাহী ক্ষমতা এবং কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থাগুলোর ওপর তাঁর প্রভাবও।
নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রে মূলত অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের হাতে। ফলে কেন্দ্রীয় সরকার সরাসরি সব ভোটকেন্দ্র বা গণনার প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে না। তবে বিচার বিভাগ, কেন্দ্রীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের পদক্ষেপ নির্বাচনী পরিবেশে প্রভাব ফেলতে পারে।
সমালোচকদের আশঙ্কা, নির্বাচনের আগে বা পরে সরকারি ক্ষমতা ব্যবহার করে নির্বাচন পরিচালনাকারী কর্মকর্তা, ভোটার নিবন্ধনব্যবস্থা কিংবা নির্বাচনী ফল যাচাইয়ের প্রক্রিয়ায় চাপ সৃষ্টি করা হতে পারে। এসব আশঙ্কা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে অভিযোগ, নথিভুক্ত পদক্ষেপ এবং আদালতের সিদ্ধান্তকে আলাদা করে দেখা প্রয়োজন।
যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী ব্যবস্থায় ভোট গণনা, ফল প্রত্যয়ন এবং বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য নির্দিষ্ট আইন ও প্রক্রিয়া রয়েছে। নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তার তদন্ত ও বিচার হতে পারে। কিন্তু নির্ভরযোগ্য প্রমাণ ছাড়া নির্বাচনের ফলকে অবৈধ ঘোষণা করার প্রচেষ্টা জনআস্থা ক্ষুণ্ন করতে পারে।
ট্রাম্প প্রশাসনের কোনো পদক্ষেপ নির্বাচনী আইন লঙ্ঘন করেছে কি না, তা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি, আদালতের আদেশ এবং স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ।
আগামী নির্বাচন ঘিরে মূল প্রশ্ন তাই শুধু ট্রাম্প আবার ‘নির্বাচন চুরি’র অভিযোগ তুলবেন কি না, তা নয়; বরং এমন অভিযোগের ভিত্তিতে সরকারি ক্ষমতা কীভাবে ব্যবহার করা হবে এবং আদালত, অঙ্গরাজ্য প্রশাসন ও অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা কতটা কার্যকর থাকবে।
সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (AP)।
ইসরায়েলের আয়রন ডোমের দিকে অস্ট্রেলিয়ার নজর
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে চাপে থাকা ২ কোটি পরিবারকে সহায়তা দেবে যুক্তরাজ্য