মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে সাংবাদিককে আটক

আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২৪ পিএম

ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরের উম্ম আল-খায়ের গ্রামে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে তিন অধিকারকর্মীকে মারধর, হুমকি এবং তাঁদের ব্যক্তিগত সরঞ্জাম লুটের অভিযোগ উঠেছে। আক্রান্তদের মধ্যে রয়েছেন রুশ অধিকারকর্মী আদেলে শোকো, মার্কিন সাংবাদিক জ্যাসপার নাথানিয়েল এবং ইসরায়েলি-রুশ অধিকারকর্মী আন্দ্রেই এক্স।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে শোকো এসব অভিযোগ করেন। তাঁর প্রকাশিত ভিডিওতেও কয়েকজন পুরুষকে নাথানিয়েল ও আন্দ্রেইকে মারধর করতে দেখা যায়। তবে ঘটনার সব বিবরণ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

শোকোর দাবি, সশস্ত্র বসতি স্থাপনকারীরা তাঁদের ওপর হামলা চালিয়ে বিভিন্ন সরঞ্জাম ও ব্যক্তিগত জিনিসপত্র নিয়ে যায়। তিনি ও নাথানিয়েল মারধরের শিকার হন। পরে নাথানিয়েলের চোখেমুখে মরিচের স্প্রে ছিটিয়ে তাঁকে আটক করা হয়।

শোকো আরও জানান, আন্দ্রেই এক্স গুরুতর মারধরের শিকার হন এবং কয়েকবার জ্ঞান হারান। তাঁর অভিযোগ, ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও আন্দ্রেইকে হাসপাতালে নেওয়া হয়নি। তাঁকে অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হলেও পরে পুলিশ স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয়। শোকোর দাবি, এরপরও তিনি আটক ছিলেন এবং চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন।

শোকোর পোস্ট করা আরেকটি ভিডিওতে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষকে নাথানিয়েলকে নিয়ে যেতে দেখা যায়। এ সময় তাঁকে বলতে শোনা যায়, তাঁকে কিছুক্ষণ আগেই মারধর করা হয়েছে।

পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ এটিই প্রথম নয়। গত ১৬ অক্টোবর রামাল্লাহর উত্তর-পূর্বে আবু ফালাহ এলাকায় জলপাই সংগ্রহের সময় ফিলিস্তিনি কৃষকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, মুখোশধারী ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা কৃষকদের ওপর পাথর ছোড়ে, গুলতি ব্যবহার করে এবং জলপাইগাছেও আগুন ধরিয়ে দেয়।

ওই ঘটনা কাভার করতে গিয়ে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট-এর ফটোসাংবাদিক হেইডি লেভিনও হামলার শিকার হন। তাঁকে মারধর করা হয়, তাঁর জিনিসপত্র লুট করা হয় এবং পরে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

লেভিনের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘প্রেস’ লেখা সুরক্ষাবর্ম পরা অবস্থায় তাঁকে মাটিতে ফেলে বারবার লাথি ও আঘাত করা হয়। হামলাকারীরা তাঁর পাসপোর্ট, ফোন ও ক্যামেরার সরঞ্জাম নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট-এর নির্বাহী সম্পাদক ম্যাট মারে দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকের ওপর হামলার নিন্দা জানান। কয়েকজন মার্কিন আইনপ্রণেতাও ঘটনার তদন্ত এবং পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানান।

পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি কৃষক, সাংবাদিক ও অধিকারকর্মীদের ওপর হামলার এসব অভিযোগ নিরাপত্তা, সংবাদকর্মীদের সুরক্ষা এবং দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রশ্ন সামনে এনেছে।

বিশেষ করে, হামলার সময় নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকা কী ছিল, আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল কি না এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ আনা হয়েছে—এসব বিষয় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করা প্রয়োজন।

তবে উম্ম আল-খায়েরের সর্বশেষ ঘটনার বিষয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ এবং স্বাধীন তদন্তের ফলাফল এই প্রতিবেদনে উল্লেখিত তথ্যের মধ্যে নেই। তাই অভিযোগগুলোর পূর্ণাঙ্গ চিত্র পেতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য ও যাচাইকৃত তথ্য প্রয়োজন।

এমইউ
আরও পড়ুন