পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ

গাজীপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে বিজিবি মোতায়েন

আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১২:১৩ পিএম

ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে গাজীপুরে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন শ্রমিকেরা। এক পর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ও পুলিশ বক্সে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ৫ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে।

রোববার (১ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর এলাকায় শ্রমিকেরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে জড়ো হয়ে অবরোধ শুরু করেন। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আটকা পড়েন দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রীরা। দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে বিভিন্ন পোশাক কারখানায় শ্রমিকরা কাজে যোগ দিলেও পরে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে একে একে কারখানা থেকে বের হয়ে মহাসড়কে অবস্থান নেন। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আন্দোলনে শ্রমিকের সংখ্যা বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে একটি পুলিশ বক্সে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি বিজিবি মোতায়েন করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসব এলাকায় ৫ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। তবে প্রয়োজন অনুযায়ী বিজিবির সদস্যসংখ্যা আরও বাড়ানো হতে পারে বলে জানিয়েছেন গাজীপুরের শিল্প পুলিশ সুপার আমজাদ হোসাইন।

এদিকে শ্রমিকদের অবরোধের কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক কার্যত যানবাহনশূন্য হয়ে পড়ে। দীর্ঘ সময় ধরে যান চলাচল বন্ধ থাকায় সড়কের ফাঁকা অংশে দেখা যায় ব্যতিক্রমী দৃশ্য। আন্দোলনরত শ্রমিকদের কেউ ফুটবল খেলছেন, আবার কেউ ক্রিকেট খেলায় মেতে উঠেছেন। শ্রমিক অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ায় সফিপুর ও আশপাশের এলাকার ১৮টি পোশাক কারখানা কর্তৃপক্ষ বন্ধ ঘোষণা করে। এতে শিল্পাঞ্চলের স্বাভাবিক উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হয়।

এর আগে, শনিবার দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত একই দাবিতে শ্রমিকেরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। পরে রাতে তারা সড়ক ছেড়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। তবে রোববার সকাল থেকেই আবারও শ্রমিকেরা সড়কে অবস্থান নেওয়ায় পরিস্থিতির নতুন করে অবনতি ঘটে।

শ্রমিকদের দাবি, বর্তমান বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তাদের ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করতে হবে। কয়েক সপ্তাহ ধরে গাজীপুরের কোনাবাড়ী, মৌচাক, সফিপুরসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও অসন্তোষ চলে আসছে। এ পরিস্থিতিতে সরকার নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত নিলেও শ্রমিকদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে।

এ বিষয়ে কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘রোববার সকাল থেকেই শ্রমিকরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে অবস্থান নিয়েছেন। তাদের অবরোধের কারণে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।’

জেএম
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত