মরক্কোয় ৫৪০০ কোটি দিরহামের বন্দরের কার্যক্রম শুরু

আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১০:১৮ পিএম

মরক্কোর উত্তরাঞ্চলে নাদোর ওয়েস্ট মেড শিল্প-বন্দর কমপ্লেক্সের প্রথম কনটেইনার টার্মিনালের কার্যক্রম উদ্বোধন করেছেন দেশটির ক্রাউন প্রিন্স মুলায় হাসান। শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদের নির্দেশনায় নাদোর প্রদেশের ইয়াজানেন এলাকায় ‘ইস্ট’ টার্মিনালটির কার্যক্রম শুরু করেন তিনি। প্রায় ৫৪ হাজার কোটি দিরহাম নয়, ৫৪০০ কোটি দিরহাম সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগে নির্মিত এই বন্দর কমপ্লেক্সের কার্যক্রম শুরুর মধ্য দিয়ে মরক্কোর বন্দর অবকাঠামো উন্নয়নে নতুন অধ্যায় শুরু হলো।

প্রায় ৫০০ কোটি দিরহাম বিনিয়োগে নির্মিত ইস্ট টার্মিনালটির জেটির দৈর্ঘ্য ১ হাজার ৫২০ মিটার। ১৮ মিটার গভীরতার এই টার্মিনালে রয়েছে ৭০ হেক্টর জায়গাজুড়ে কনটেইনার রাখার ব্যবস্থা। ২০৩০ সালের মধ্যে এখানে বছরে ৩৫ লাখ কনটেইনার ওঠানামার সক্ষমতা তৈরি হবে। টার্মিনালটি ২৫ বছর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পেয়েছে মরক্কোর প্রতিষ্ঠান মারসা মারোক এবং বিশ্বের শীর্ষ কনটেইনার পরিবহনকারী প্রতিষ্ঠান এমএসসি গ্রুপের সহযোগী টার্মিনাল ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগ।

কমপ্লেক্সটিতে দ্বিতীয় একটি কনটেইনার টার্মিনালও নির্মাণ করা হচ্ছে। ‘ওয়েস্ট’ নামের এই টার্মিনালের সক্ষমতা হবে ১৮ লাখ কনটেইনার। প্রায় ৩০০ কোটি দিরহাম বিনিয়োগে নির্মিতব্য টার্মিনালটির জেটির দৈর্ঘ্য ৯০০ মিটার এবং কনটেইনার রাখার জায়গা ৩৮ হেক্টর। মারসা মারোক ও বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম কনটেইনার পরিবহনকারী প্রতিষ্ঠান সিএমএ সিজিএমের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এই টার্মিনাল ২০২৭ সালের এপ্রিলে চালু হওয়ার কথা। এটি চালু হলে বন্দরের দুই কনটেইনার টার্মিনালের সম্মিলিত সক্ষমতা দাঁড়াবে ৫৩ লাখে।

কনটেইনার পরিবহনের পাশাপাশি সাধারণ পণ্য ও বাল্ক কার্গো ব্যবস্থাপনার জন্যও অবকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। ২২ হেক্টর জায়গাজুড়ে নির্মিত সাধারণ পণ্য টার্মিনালের সক্ষমতা হবে বছরে ৩০ লাখ টন। এটি ২০২৮ সালের ডিসেম্বরে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া বছরে ৭০ লাখ টন পণ্য ব্যবস্থাপনার সক্ষমতাসম্পন্ন বাল্ক কার্গো টার্মিনাল ২০২৭ সালের জুনে চালুর কথা রয়েছে। গাড়ি ও অন্যান্য যানবাহন ওঠানামার জন্য রোল-অন রোল-অফ টার্মিনালের সক্ষমতা হবে চার লাখ ইউনিট। ৩৮০ মিটার জেটির এই টার্মিনাল ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বন্দর কমপ্লেক্সে জ্বালানি অবকাঠামোও যুক্ত হচ্ছে। সেখানে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের জন্য একটি টার্মিনাল নির্মাণ করা হচ্ছে, যার সক্ষমতা হবে ৫০ কোটি নয়, ৫০০ কোটি ঘনমিটার। ৩৬০ মিটার জেটির এই স্থাপনার পাশাপাশি বছরে ২ কোটি ৫০ লাখ টন হাইড্রোকার্বন ব্যবস্থাপনার সক্ষমতাসম্পন্ন টার্মিনালও থাকবে। ১২৫ মিটার করে তিনটি জেটি নিয়ে নির্মিত এই জ্বালানি অবকাঠামো ২০২৭ সালের এপ্রিলে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

নাদোর ওয়েস্ট মেড প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি। স্বল্পমেয়াদে এই কমপ্লেক্সে ১৪ হাজার মানুষের সরাসরি এবং ২০ হাজার মানুষের পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৭০০ হেক্টর এলাকাজুড়ে শিল্প ও লজিস্টিকস কেন্দ্র গড়ে তোলা হচ্ছে, যেখানে বেসরকারি খাতে ১ হাজার ২০০ কোটি দিরহাম বিনিয়োগ আসার কথা রয়েছে। নতুন শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী তরুণদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কর্মসূচিও নেওয়ার কথা জানিয়েছে মরক্কো।

বন্দরটির সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগ সহজ করতে রেল ও সড়ক অবকাঠামো নির্মাণ করা হচ্ছে। সেলুয়ান থেকে নাদোর ওয়েস্ট মেড পর্যন্ত ৪৯ কিলোমিটার রেলপথ এবং গেরসিফ শহর থেকে ১০৫ কিলোমিটার মহাসড়ক সংযোগ তৈরি করা হবে। এসব অবকাঠামোর মাধ্যমে বন্দরটির সঙ্গে আশপাশের শিল্প ও বাণিজ্যিক অঞ্চলগুলোর যোগাযোগ বাড়বে।

মরক্কোর পরিকল্পনা অনুযায়ী, নাদোর ওয়েস্ট মেড ভূমধ্যসাগর, ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার মধ্যকার আন্তর্জাতিক সমুদ্রবাণিজ্যে দেশটির অংশীদারত্ব বাড়াতে ভূমিকা রাখবে। বিদ্যমান তাঞ্জের মেড বন্দরের পরিপূরক হিসেবে নতুন এই বন্দর গড়ে তোলা হচ্ছে। এর মাধ্যমে দেশের বন্দর অবকাঠামো আরও বৈচিত্র্যময় ও প্রতিযোগিতামূলক করার পাশাপাশি শিল্প, সরবরাহব্যবস্থা ও বাণিজ্যের নতুন কেন্দ্র গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে।

মরক্কোর এই পরিকল্পনা শুধু ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলেই সীমাবদ্ধ নয়। আটলান্টিক উপকূলে ডাকলা আটলান্টিক প্রকল্পের মাধ্যমেও দেশটির আফ্রিকায় বাণিজ্যিক অবস্থান শক্ত করার উদ্যোগ চলছে। বিশেষ করে সাহেল অঞ্চলের দেশগুলোকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ করে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে ওই প্রকল্পের। সূত্র: হেসপ্রেস

এএস
আরও পড়ুন