মাত্র ২৮ বছর বয়সেই থেমে গেল এক সম্ভাবনাময় ফুটবলারের জীবন। দিয়োগো জোতা-যিনি লিভারপুলের লাল জার্সিতে মাঠ কাঁপিয়েছেন, পর্তুগালের পতাকা উঁচিয়ে ধরেছেন-আজ আর নেই। বিয়ের মাত্র দুই সপ্তাহ পর স্পেনের জামোরা প্রদেশে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন তিনি ও তার ভাই আন্দ্রে সিলভা।
দুঃসংবাদের এই আঁধারে ডুবে গেছে ফুটবল দুনিয়া। কেবল ইউরোপ নয়, বহু দূরে বাংলাদেশেও হৃদয়ে রক্তক্ষরণ টের পাওয়া গেছে। জাতীয় দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, ‘শান্তিতে থেকো দিয়োগো জোতা (১৯৯৬–২০২৫)... তার ভাইসহ সড়ক দুর্ঘটনায় সে মারা গেছে। তার ভাইও ছিল ফুটবলার।’
জোতা গত মৌসুমেই লিভারপুলকে এনে দিয়েছিলেন বহু কাঙ্ক্ষিত প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা। জাতীয় দলের হয়েও নিজের জাত চিনিয়েছেন-৪৯ ম্যাচে ১৪ গোল, দুটি নেশনস লিগ শিরোপা। তাঁর অভিষেক থেকে বিদায় পর্যন্ত ক্যারিয়ারের প্রতিটি ধাপই ছিল সংগ্রাম, সাফল্য আর সম্ভাবনায় ভরপুর।
লিভারপুলের কিংবদন্তি জেমি ক্যারাঘার জানালেন, ‘দিয়োগো জোতার মৃত্যুর খবর শুনে সত্যিই ভেঙে পড়েছি।’ ইংল্যান্ডের আরেক কিংবদন্তি গ্যারি নেভিল বললেন, ‘তার পরিবারের জন্য আমার থেকে ভালোবাসা ও শুভকামনা থাকবে।’
এইসব শোকবার্তা শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়-এ যেন এক মৌন আহাজারি, এক অসমাপ্ত অধ্যায়ের অপ্রকাশিত কষ্ট। পেছনে রেখে গেলেন স্ত্রী রুত এবং তিন সন্তানকে। রেখে গেলেন ৩৯৮ ম্যাচে ১৩৬ গোল ও ৬৬ অ্যাসিস্টের এক গৌরবময় রেকর্ড। অথচ এই গল্পটা আরও দীর্ঘ হওয়ার কথা ছিল। আরও ম্যাচ, আরও গোল, আরও উদযাপন, সব থেমে গেল হঠাৎ!
