চূড়ান্ত হয়নি চট্টগ্রাম বন্দরে মাশুল বাড়নোর সিদ্ধান্ত

আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০২৫, ০২:২৫ পিএম

চট্টগ্রাম বন্দরে প্রস্তাবিত নতুন মাশুল নিয়ে স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত শেষ মুহূর্তের বৈঠক কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছে। তবে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর প্রস্তাবিত মাশুল নিয়ে আরো একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

সোমবার (২৫ আগস্ট) বিকেল ৪টায় নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বন্দর কর্তৃপক্ষ ছাড়াও বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন ও ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার অ্যাসোসিয়েশনসহ প্রায় ২০টি ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

অধিকাংশ স্টেকহোল্ডার একসঙ্গে এত বেশি মাশুল বাড়ানোর বিরুদ্ধে মত প্রকাশ করেছেন।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, অতিরিক্ত মাশুল বাড়ালে দেশের রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বন্দরের প্রকৃতি সেবামূলক এবং লাভজনক নয়, তবু কিছুটা লাভ হচ্ছে। তাই প্রস্তাব দিয়েছেন, যদি মাশুল বাড়ানো হয়, গড়ে ১০ শতাংশের বেশি না বাড়ানো উচিত।

বেসরকারি ডিপো মালিকদের সংগঠন বিকডা’র মহাসচিব রুহুল আমিন সিকদার বলেন, নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় সরাসরি মাশুল বৃদ্ধির বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে বন্দরের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য প্রস্তাব দিয়েছেন। বিশেষ করে আমদানি কনটেইনারের বাইরে থেকে ডেলিভারি এবং স্ক্যানিং সমস্যার দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে আলাদা বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ আরিফও জানিয়েছেন, আজকের বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে সবাই একমত হয়েছেন যে, ১০ শতাংশের বেশি মাশুল বাড়ানো ঠিক হবে না। ব্যবসায়ীদের ঝুঁকির মধ্যে রেখে রপ্তানি এগোবে না। ইতোমধ্যেই ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ায় বন্দরের সব ধরনের সেবার খরচও বেড়েছে। 

আবার মাশুল বাড়ালে ব্যবসায়ীরা নতুন ক্ষতির মুখে পড়বেন। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর পুনরায় একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম বন্দরে প্রস্তাবিত নতুন মাশুল কার্যকর হলে বন্দরের আয় গড়ে ৪১ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। সব মাশুল ডলারে নির্ধারিত হওয়ায় ডলারের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে মাশুলও স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়বে। প্রস্তাবনায় প্রতি ২০ ফুট কনটেইনারে গড়ে ১১ হাজার ৮৪৯ টাকা মাশুলের মধ্যে আমদানি কনটেইনারে বাড়বে ৫ হাজার ৭২০ টাকা, রপ্তানিতে বাড়বে ৩ হাজার ৪৫ টাকা। ফলে কনটেইনার প্রতি গড়ে ১৬ হাজার ২৪৩ টাকা মাশুল দিতে হবে।

NJ
আরও পড়ুন