যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও সুপরিচিত রক্ষণশীল কর্মী চার্লি কার্ককে বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) ইউটাহ ভ্যালি ইউনিভার্সিটিতে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
৩১ বছর বয়সী কার্ক ছিলেন একজন জনপ্রিয় রক্ষণশীল পডকাস্টার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক প্রভাবশালী কণ্ঠস্বর। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসজুড়ে তার আয়োজন করা বিতর্কমূলক অনুষ্ঠানগুলোতে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিষয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতেন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে। এসব আয়োজনে নিয়মিত হাজারো শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীর সমাগম হতো।
বিতর্কিত বক্তব্য ও মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে অবস্থান
চার্লি কার্ক প্রায়ই তার বক্তব্য ও পডকাস্টে মধ্যপ্রাচ্যসংক্রান্ত বিষয়, বিশেষত ইসলাম, ইসরায়েল-গাজা যুদ্ধ, ইরান এবং যৌন নিপীড়ক জেফ্রি এপস্টেইন প্রসঙ্গে কথা বলতেন। গাজায় ইসরায়েলের হামলা ও সেখানে বহু নারী-শিশুর মৃত্যুকে ঘিরে যখন মার্কিন রক্ষণশীলদের মধ্যেই বিভাজন তৈরি হয়, তখন কার্ক স্পষ্টভাবে ইসরায়েলপন্থী অবস্থান গ্রহণ করেন।
নিজেকে তিনি ‘ইভানজেলিক্যাল খ্রিষ্টান জায়োনিস্ট’ পরিচয়ে গর্বিত বলে উল্লেখ করেন এবং দাবি করেন, ইসরায়েলকে সমর্থন করার ব্যাপারে আমার রেকর্ড অটুট। বাইবেলের ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী, ইসরায়েলকে দেওয়া জমির অধিকার বৈধ। আমি ইসরায়েলের জন্য লড়ব।
কার্ক গাজার দুর্ভিক্ষ, ইসরায়েলি নিপীড়ন বা শিশু মৃত্যুর মতো ইস্যুগুলো হামাস ও ফিলিস্তিনি নেতৃত্বের ওপর চাপিয়ে দিতেন। তার বক্তব্যে ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা গৌণ হয়ে পড়ত। এক পর্যায়ে একটি অপুষ্ট শিশু নিয়ে তিনি বিতর্ক ছড়ান, যার অসুস্থতার প্রকৃত কারণ হিসেবে দুর্ভিক্ষ নয়, বরং জেনেটিক রোগ সেরিব্রাল পালসি উল্লেখ করেন।
ইসলাম ও মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য
কার্ক প্রায়ই ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক মন্তব্য করতেন। তিনি একাধিকবার প্রকাশ্যে ইসলামকে ‘পশ্চিমা সভ্যতার হুমকি’ আখ্যা দেন। এমনকি তিনি বলেছিলেন, আমি চাই না, আমার সন্তানরা এমন কোনো আমেরিকায় বড় হোক, যেখানে তারা আজানের শব্দ শুনবে।
তিনি পশ্চিমে ‘আধ্যাত্মিক যুদ্ধ’ চলছে বলেও মন্তব্য করেন এবং ইসলাম, ওক-বাদ এবং মার্ক্সবাদকে ‘মার্কিন জীবনধারার শত্রু’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) সম্পর্কেও তিনি চরম অবমাননাকর মন্তব্য করেন এবং তাঁকে ‘যুদ্ধবাজ’ ও ‘পেডোফাইল’ বলে আখ্যা দেন, যা সামাজিক মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়।
ইরান নিয়ে ব্যতিক্রমী মত
ইসরায়েল বিষয়ে কট্টর সমর্থন জানালেও, ইরান প্রশ্নে কার্ক মার্কিন রক্ষণশীলদের অনেকের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেন। গত জুনে ইসরায়েল যখন ইরানের ওপর আক্রমণ করে, তখন কার্ক প্রকাশ্যে প্রশ্ন তোলেন এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের জড়িয়ে পড়া কতটা যৌক্তিক। তিনি বলেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্রে সজ্জিত হলে সেটা ইসরায়েলের জন্য হুমকি হতে পারে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কতটা।
তিনি আরও বলেন, ১৯৫৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ মোসাদ্দেককে সরিয়ে শাহকে ক্ষমতায় বসানোর মাধ্যমে ইসলামী বিপ্লবের পথ তৈরি করে দেয়। এই ইতিহাস তুলে ধরেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যনীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং নতুন করে ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ বাধানোর বিরুদ্ধে সতর্ক করেন।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
চার্লি কার্কের হত্যাকাণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একে ‘উগ্র বামদের সন্ত্রাস’ বলে আখ্যা দিয়েছেন এবং বলেন, আমরা এক অন্ধকারাচ্ছন্ন মুহূর্তে প্রবেশ করেছি। এ হত্যাকাণ্ডকে অনেকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আক্রমণ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ বলছেন, তার উস্কানিমূলক বক্তব্যই তাকে বিপদে ফেলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে করবেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী
কোনো ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র থাকবে না: নেতানিয়াহু