নেপালে চলমান দুর্নীতিবিরোধী গণআন্দোলনের মধ্যে দেশজুড়ে দেখা দিয়েছে নতুন রাজনৈতিক সংকট। বিক্ষোভ-সহিংসতার জেরে প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পাউডেলের পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে অসাংবিধানিক দাবি করে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো তা পুনর্বহালের আহ্বান জানিয়েছে।
বিবিসি’র এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দেওয়া যৌথ বিবৃতিতে অন্তত আটটি রাজনৈতিক দল নেপালি কংগ্রেস, সিপিএন-ইউএমএল, মাওবাদী কেন্দ্রসহ আরও কয়েকটি দল প্রেসিডেন্টের পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে। তারা বলেছে, নির্বাচিত পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়া দেশের সংবিধান এবং আদালতের রায়ের পরিপন্থি।
এর আগে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে 'জেন জি' তরুণদের আন্দোলনের চাপে পদত্যাগ করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি। পরে আন্দোলনকারীদের অন্যতম দাবি অনুযায়ী সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কিকে অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন প্রেসিডেন্ট। এরপর তার পরামর্শেই আইনসভা ভেঙে দেওয়া হয়।
আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারি নিষেধাজ্ঞা জারির মধ্য দিয়ে। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপসহ ২৬টি অ্যাপে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এর জেরে পুরো দেশে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভ। পুলিশি দমন-পীড়নে অন্তত ৫০ জন নিহত হয় বলে জানা গেছে।
এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হলেও আন্দোলনকারীদের ক্ষোভ প্রশমিত হয়নি। মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) উত্তাল জনতা কাঠমান্ডুর পার্লামেন্ট ভবন ও সরকারি অফিসে আগুন ধরিয়ে দেয়।
এই আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে, দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান ও নিরপেক্ষ ভাবমূর্তির জন্য সুশীলা কার্কি প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ নেন। তিনি নেপালের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী।
তবে তার সামনে রয়েছে বহু চ্যালেঞ্জ
- আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ
- ভাঙচুর হওয়া সরকারি অবকাঠামো পুনর্গঠন
- তরুণদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা
- সহিংসতার জন্য দায়ীদের বিচার নিশ্চিত করা
- আগামী ৫ মার্চ ঘোষিত নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন করা
একদিকে প্রেসিডেন্ট পাউডেল সকল পক্ষকে সংযম দেখিয়ে নির্বাচনমুখী হতে বললেও, অন্যদিকে বিরোধীরা বলছে, জনগণের প্রকৃত চাওয়া বুঝতে হলে সংসদ পুনর্বহাল করতে হবে। আন্দোলনকারী তরুণদের একাংশও বলছে, একটি অসাংবিধানিক সরকার নয়, আমরা চাই জবাবদিহিতামূলক গণতন্ত্র।
নেপালে কারফিউ প্রত্যাহার
নেপালে সংসদ ভেঙে মার্চে নির্বাচনের ঘোষণা অন্তর্বর্তী সরকারের
সুশীলা কার্কির স্বামী উড়োজাহাজ ছিনতাই করেছিলেন