সুরমা-কুশিয়ারায় পানি বিপদসীমা ছাড়িয়েছে, সিলেটে বন্যার আশঙ্কা

উজানে ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সিলেটে নদীগুলোর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যে সুরমা ও কুশিয়ারার পানি কয়েকটি পয়েন্টে বিপদসীমা অতিক্রম করায় স্বল্পমেয়াদি আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ধস মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।

সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্যমতে, কানাইঘাট পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ৩ সেন্টিমিটার এবং কুশিয়ারা নদীর পানি ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে ৩৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আমলশীদ পয়েন্টে কুশিয়ারার পানি বিপদসীমার সমানস্তরে রয়েছে এবং অন্যান্য প্রধান নদীগুলোর পানিও বিপদসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে।

পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ জানান, ভারতের আসাম ও মেঘালয়ে সৃষ্টি হওয়া বন্যার পানি নেমে আসায় নদীগুলোতে এই চাপ সৃষ্টি হয়েছে। তবে আপাতত আসাম বা মেঘালয়ে নতুন করে বড় ধরনের ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস নেই; ফলে বৃষ্টি বাড়লে বন্যা পরিস্থিতির রূপ পরিষ্কার হবে।

সম্ভাব্য যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলায় সিলেটে প্রস্তুত রাখা হয়েছে ৫৭৫টি আশ্রয়কেন্দ্র। পাশাপাশি ১০ হাজার ৩১৯ প্যাকেট শুকনা খাবার, ১ হাজার ২৫০ প্যাকেট শিশুখাদ্য, ১৭৫ মেট্রিক টন চাল, ৪৮ বান্ডিল ঢেউটিন এবং নগদ ১০ লাখ টাকা মজুদ করা হয়েছে, যা থেকে ইতিমধ্যেই ত্রাণ বিতরণ শুরু হয়েছে।

দুর্গত এলাকার স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে ১০৫টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়াও প্রায় ৩ লাখ ফোরটিফাইড স্যালাইন, ১.৪২ লাখ পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, ১০ হাজারেরও বেশি cholera স্যালাইন এবং ১৭৬ ভায়াল অ্যান্টি-স্নেকভেনম পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুদ করা আছে। জরুরি সেবা চালু রাখতে স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

পাহাড়ধস ও আকস্মিক বন্যা নিয়ে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করতে জেলা তথ্য অফিসের উদ্যোগে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে টানা মাইকিং ও সড়ক প্রচার চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ওয়েবসাইটে জরুরি বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে এবং বন্যা-পরবর্তী ডেঙ্গু বিস্তার রোধেও প্রচার কার্যক্রম চলছে।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, সিলেটে বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে এবং আগামী ২৪ ঘণ্টায় বিভাগের অনেক স্থানে মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।

বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণও বেশি রয়েছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এখন পর্যন্ত সিলেটে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি কিংবা পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেনি।

সংবাদ সূত্র: জেলা প্রশাসন, সিলেট; পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো); আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং জেলা তথ্য অফিস, সিলেট।