বরগুনা বামনা উপজেলার ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের সামনে সড়ক পাশে কান্নার শব্দ শুনে ফেলে দেওয়া একটি সদ্যোজাত কন্যা শিশু উদ্ধার করেছে স্থানীয়রা। এসময় শিশুটি একটি বাজার ব্যাগ ভর্তি অবস্থায় ছিলো।
সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকাল ৫টার দিকে শিশুটিকে উদ্ধার করে তাৎক্ষণিক বামনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। শিশুটি বর্তমানে ফায়ার সার্ভিসের সামনে চা বিক্রেতা তারিক হোসেনের তত্ত্বাবধানে রয়েছে।
জানাগেছে, বামনা ফায়ার সার্ভিসের সামনে জনৈক বাবুল মিয়া নামে একজন প্রথমে শিশুটির কান্না শুনতে পায়। পরে তিনি ফায়ার ফাইটার কামরুজ্জামানকে বিষয়টি জানায়। ফাইটার কামরুজ্জামান ও স্থানীয় যুবক তারিক হোসেন শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে তারেক শিশুটিকে পরিচর্যার জন্য তার জিম্মায় নিয়ে যায়। বর্তমানে শিশুটি তার বোনের তত্ত্বাবধানে রয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের বামনা ফায়ার ফাইটার কামরুজ্জামান বলেন, শিশুটির কান্নার শব্দ শুনে আমি, বাবুল ও তারিক সহ স্থানীয়রা পরিত্যাক্ত ব্যাগটি উদ্ধার করি। পরে ব্যাগ খুলে দেখি একটি সদ্যোজাত কন্যা শিশু। পরে শিশুটিকে তারিক ও আমি বামনা হাসপাতালে নিয়ে যাই। হাসপাতালের জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানায় শিশুটির উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। পরে শিশুটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তারিক হোসেন তার জিম্মায় বাড়ি নিয়ে যায়।
ফায়ার ফাইটার কামরুজ্জামান আরো জানান, শিশুটিকে উদ্ধারের সময় সেখান দিয়ে বামনা থানার অফিসার ইনচার্জের গাড়ি যাচ্ছিলো। আমরা গাড়িটি থামিয়ে ওসিকে বিষয়টি জানাই। তিনি আমাদের শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে চলে যায়।
শিশুটিকে নিজের জিম্মায় নেওয়া তারিক হোসেন জানায়, আমি শিশুটিকে নিয়ে চিকিৎসা করিয়েছি। ওর জন্য দুধ কিনে খাওয়াচ্ছি। শিশুটি বর্তমানে আমার বোনের তত্বাবধানে সুস্থ্য করার চেষ্টা করছি। তিনি বলেন, শিশুটিকে অনেকেই নিতে চাচ্ছে। কিন্তু আমি শিশুটিকে কারো কাছে দিবো না ও আমার বোনের মতোন বড় হবে আমার বোনের পরিচয়ে বেড়ে উঠবে।
বামনা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ফারুক হোসেন খান বলেন, আমি আজ খুবই ব্যস্ত ছিলাম। একবার শিশু উদ্ধারের বিষয়ে শুনেছি। তবে আমি এখনো কোন খোজ খবর নিতে পারিনি। খোজ নিয়ে বিস্তারিত জানাবো।