ঝুঁকিপূর্ণ পাথরঘাটার তিন খাদ্যগুদাম

আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৫৫ পিএম

চার দশকের বেশি সময় ধরে সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার তিনটি সরকারি খাদ্যগুদাম জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ভবনের বিভিন্ন স্থানে পলেস্তারা খসে পড়ছে, কোথাও দেখা দিয়েছে ফাটল। ক্ষতিগ্রস্ত ছাদ দিয়ে বর্ষায় চুইয়ে পড়ছে পানি। এতে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন শ্রমিকরা। পাশাপাশি খাদ্যশস্য সংরক্ষণ নিয়েও তৈরি হয়েছে উদ্বেগ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পাথরঘাটার তিনটি খাদ্যগুদাম ১৯৮০ সালে নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের পর চার দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও বড় ধরনের সংস্কার বা কাঠামোগত মেরামত করা হয়নি। দীর্ঘদিনের অবহেলা ও প্রাকৃতিক ক্ষয়ের কারণে ভবনের বিভিন্ন অংশ দুর্বল হয়ে পড়েছে।

গুদাম সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, বৃষ্টির সময় ছাদ দিয়ে পানি গুদামের ভেতরে পড়ে। এতে খাদ্যশস্য ভিজে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। সাময়িকভাবে পলিথিন দিয়ে খাদ্যশস্য ঢেকে রাখা হলেও এটি স্থায়ী সমাধান নয়।

পাথরঘাটা খাদ্যগুদামের লেবার সরদার মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘গুদামের ভেতরে কাজ করতে সব সময়ই ভয় লাগে। মাঝে মাঝে দেয়ালের পলেস্তারা খসে শ্রমিকদের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে পড়েছে। ভবন নির্মাণের পর বড় ধরনের সংস্কার করা হয়নি।’

তিনি বলেন, গুদামের সামনের সড়কের অবস্থাও ভালো নয়। খাদ্যশস্য ওঠানো-নামানোর সময় শ্রমিকদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। নৌযান বা কার্গো থেকে খাদ্যশস্য নামানোর পর্যাপ্ত ব্যবস্থাও নেই। ফলে কাঠের তক্তা ব্যবহার করে ঝুঁকি নিয়ে খাদ্যশস্য গুদামে নিতে হয়।

স্থানীয়রা বলেন, খাদ্য সংরক্ষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা বছরের পর বছর সংস্কারহীন অবস্থায় পড়ে থাকা উচিত নয়। দ্রুত গুদামগুলোর কাঠামোগত সক্ষমতা পরীক্ষা করে প্রকৌশলগত মূল্যায়নের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংস্কার করা দরকার। একই সঙ্গে ছাদ মেরামত এবং খাদ্যশস্য ওঠানো-নামানোর জন্য নিরাপদ অবকাঠামো নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

পাথরঘাটা উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক অঞ্জন কুমার ডাকুয়া বলেন, ‘গুদামগুলো বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সংস্কারের অভাবে দেয়াল ও ছাদের পলেস্তারা খুলে পড়ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

MCH
আরও পড়ুন