হাতিয়ায় ভারী বর্ষণে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় কয়েক দিনের টানা ভারী বর্ষণ ও অস্বাভাবিক জোয়ারে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে বসতঘর, ফসলের মাঠ, মাছের ঘের ও সড়ক পানিতে তলিয়ে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন উপকূলের হাজারো মানুষ। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের ও দিনমজুর শ্রেণির মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, টানা বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে হাতিয়ার সাতটি ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে তমরদ্দি, সুখচর, জাহাজমারা ও নলচিরা ইউনিয়ন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব এলাকার বসতঘর, রান্নাঘর, আঙিনা, গ্রামীণ সড়ক এবং মাছের ঘের পানিতে ডুবে গেছে।

জোয়ারের পানির কারণে শুধু হাতিয়ার মূল ভূখণ্ড নয়, নিঝুম দ্বীপসহ দমারচর, ঢালচর, চরগাসিয়া, নলের চর, বয়ার চর, চর আতাউর ও মৌলভীর চরের বিস্তীর্ণ এলাকাও প্লাবিত হয়েছে। চরাঞ্চলের বাসিন্দারা এতে আরও দুর্ভোগে পড়েছেন।

স্থানীয়রা জানান, একদিকে জোয়ারের পানি, অন্যদিকে ভারী বর্ষণের কারণে অনেক এলাকার মানুষ স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। কয়েকটি এলাকায় বসতঘর ও রান্নাঘরে পানি ঢুকে পড়ায় অনেকে রান্না করতে পারছেন না। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা চাষাবাদে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।

জেলা আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নোয়াখালীতে ১০৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল বলেন, বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে এবং কয়েকটি এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের ১১টি দল মাঠে কাজ করছে। এরই মধ্যে ৫০০ থেকে ৬০০ মানুষের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।