টানা বর্ষণে কাপাসিয়ায় জনজীবন স্থবির, কমেছে শ্রমজীবীদের আয়

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৮:০৪ পিএম

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। বাজার, সড়ক ও কর্মস্থলে মানুষের উপস্থিতি কমে যাওয়ায় অটোরিকশা, রিকশা ও ভ্যানচালক, দিনমজুর, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং হকারদের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় সাধারণ মানুষের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং কৃষিকাজও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

কাপাসিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দেখা যায়, টানা বৃষ্টির কারণে প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। কাপাসিয়া বাজার, টোক বাজার, বীর উজলী, কাজলদিঘী, আমরাইদ, ডুমদিয়া, রায়েদ, তরগাঁও, সনমানিয়া ও ঘাগটিয়াসহ বিভিন্ন বাজারে ক্রেতার উপস্থিতি ছিল কম। এর প্রভাব পড়েছে পরিবহন ও খুচরা ব্যবসায়।

কাপাসিয়া বাজারের অটোরিকশাচালক জালাল উদ্দীন বলেন, ‘আগে প্রতিদিন ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা আয় হতো। এখন ৭০০ টাকাও হয় না। কিন্তু গাড়ির কিস্তি, চার্জ ও সংসারের খরচ আগের মতোই রয়েছে।’

বীর উজলী বাজারের চা বিক্রেতা মফিজ উদ্দিন বলেন, ‘বৃষ্টি হলে মানুষ বাজারে আসে না। সারাদিন দোকান খুলে বসে থাকলেও বিক্রি অনেক কম। অনেক সময় বানানো চাও ফেলে দিতে হয়।’

একই বাজারের ভ্যানচালক মো. সোহেল মিয়া জানান, দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও আগের মতো যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে না। বৃষ্টি বাড়লে যাত্রীসংখ্যা আরও কমে যায়।

টোক ইউনিয়নের দিনমজুর আব্দুল করিম বলেন, ‘নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় তিন দিন ধরে কোনো কাজ পাইনি। সংসার চালাতে ধার করতে হচ্ছে।’

ব্যবসায়ীরাও একই ধরনের সংকটের কথা জানিয়েছেন। কাপাসিয়া বাজারের মুদি ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ছাড়া অন্য পণ্যের বিক্রি প্রায় নেই। বৃষ্টি দীর্ঘস্থায়ী হলে ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হবে।’

সবজি বিক্রেতা আবুল হোসেন জানান, বৃষ্টির কারণে সবজি নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ক্রেতা কমে যাওয়ায় লোকসান বাড়ছে। কাপড় ব্যবসায়ী মো. শাহীন মিয়া বলেন, ঈদের পর থেকেই ব্যবসা ধীরগতির ছিল। টানা বৃষ্টিতে বিক্রি প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।

বীর উজলী বাজারের ব্যবসায়ী সোহরাওয়ার্দী, কাজলদিঘীর মেহেদী হাসান এবং আমরাইদ বাজারের হোসেন আলী বলেন, ক্রেতা কমে যাওয়ায় বেচাকেনা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। তাঁদের আশঙ্কা, এ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়বেন।

ডুমদিয়া বাজারের অটোরিকশাচালক মো. মনির হোসেন বলেন, ‘সারাদিন গাড়ি নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকলেও আগের মতো যাত্রী পাওয়া যায় না। আয় কমে যাওয়ায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।’

স্থানীয়দের মতে, টানা বর্ষণে উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে পানি জমে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। কাঁচা সড়ক কর্দমাক্ত হয়ে যাওয়ায় গ্রামীণ জনপদের মানুষের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি কৃষকেরাও জমিতে পরিচর্যা ও অন্যান্য কৃষিকাজ নিয়মিত করতে পারছেন না।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, আগামী কয়েক দিনও বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে শ্রমজীবী মানুষ, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর অর্থনৈতিক সংকট আরও গভীর হতে পারে।

Attr/AHA
আরও পড়ুন