টানা ভারী বর্ষণ, উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢল এবং সামুদ্রিক জোয়ারের প্রভাবে কক্সবাজারে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। গতকাল শনিবার থেকে বিভিন্ন এলাকায় বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে। তবে বিস্তীর্ণ অঞ্চলে এখনো জলাবদ্ধতা রয়েছে। এতে দুর্গত মানুষের মধ্যে খাবার ও পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এদিকে অব্যাহত বৃষ্টির কারণে পাহাড়ধসের আশঙ্কাও বেড়েছে।
গত শুক্রবার থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত বৃষ্টিপাত কিছুটা কম থাকলেও দুপুরের পর আবারও বাড়ে। গতকাল রাতে কক্সবাজার শহরে পাহাড়ধসে এক গৃহবধূ এবং পেকুয়ায় বন্যার পানিতে ডুবে এক শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ নিয়ে জেলায় পাহাড়ধস, পানিতে ডুবে ও দেয়ালচাপায় প্রাণহানি বেড়ে অন্তত ২৮ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে ১৫ জন রোহিঙ্গা, যাদের মধ্যে অধিকাংশ শিশু।
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হান্নান জানান, আজ সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১১৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
এদিকে বঙ্গোপসাগরে বৈরী আবহাওয়া কেটে যাওয়ায় কক্সবাজারসহ দেশের চার সমুদ্রবন্দরের সতর্ক সংকেত প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে সেন্ট মার্টিন ও মহেশখালীর নৌপথে নৌযান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।
অন্যদিকে, টানা পাঁচ দিন ধরে রেলপথ ডুবে থাকায় দেশের প্রধান পর্যটন নগরী কক্সবাজারের সঙ্গে ঢাকা ও চট্টগ্রামের রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। কক্সবাজার বিমানবন্দরেও ফ্লাইট চলাচল অর্ধেকে নেমে এসেছে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সাতকানিয়া, লোহাগাড়া ও পটিয়া অংশে পাহাড়ি ঢলের পানি প্রবাহিত হওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
মাতামুহুরী ও বাঁকখালী নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় চকরিয়া, পেকুয়া, মাতামুহুরী, ঈদগাঁও ও রামু উপজেলার ৪০টি ইউনিয়ন এবং দুটি পৌরসভা ৪ থেকে ৫ ফুট পানিতে প্লাবিত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চকরিয়া, পেকুয়া ও নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলা। এসব উপজেলার অধিকাংশ গ্রাম এখনো পানির নিচে। বাড়িঘর, গ্রামীণ সড়ক, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কৃষিজমি ও ধর্মীয় উপাসনালয় ডুবে থাকায় হাজারো মানুষ মানবিক সংকটে পড়েছেন। বিশেষ করে খাবার ও পানির সংকট প্রকট আকার ধারণ করছে।
গতকাল বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন শেষে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নান জানান, দুর্গত মানুষের মধ্যে শুকনো খাবারের পাশাপাশি রান্না করা খাবার ও পানীয় জল বিতরণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এ পর্যন্ত জেলায় সরকারিভাবে ৪৫০ টন চাল, ৩০ লাখ টাকা এবং শুকনো খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে প্রশাসনের অভিযান ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।