ফটিকছড়িতে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় তৎপর প্রশাসন

আপডেট : ১২ জুলাই ২০২৬, ০২:১৩ পিএম
টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হলেও এখন পর্যন্ত সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
 
প্রশাসন, সেনাবাহিনী, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন সরকারি সংস্থার সমন্বিত তৎপরতায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে ত্রাণ ও জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
 
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বন্যার শুরু থেকেই সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়া, আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
ইউনিয়ন প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবক ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ এবং পানিবন্দী পরিবারের তালিকাও প্রস্তুত করা হচ্ছে।
 
বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজখবর নিতে সম্প্রতি এলাকা পরিদর্শন করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন। এ সময় তিনি তাৎক্ষণিক ত্রাণ সহায়তার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
ফটিকছড়ি আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীরও শপথ গ্রহণের পরপরই বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকার এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার কথা জানান।
 
বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় 'ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার'-এর আওতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীও মাঠে কাজ করছে।
সেনাসদস্যরা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে উদ্ধার তৎপরতা, দুর্গম এলাকায় ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসহ বিভিন্ন সহায়তামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অতীতের কয়েকটি বড় বন্যার তুলনায় এবার প্রশাসনের মাঠপর্যায়ের উপস্থিতি বেশি দৃশ্যমান। বিভিন্ন সরকারি সংস্থার তৎপরতায় জরুরি সেবাগুলো অব্যাহত থাকলেও রাজনৈতিক দলগুলোর পৃথক ত্রাণ কার্যক্রম তুলনামূলকভাবে কম দেখা গেছে বলে কয়েকজন বাসিন্দা মন্তব্য করেছেন।তবে এ বিষয়ে কোনো রাজনৈতিক দলের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ফটিকছড়ির বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কোথাও বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। আমরা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। নতুন করে পানি বাড়লে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের সব প্রস্তুতি রয়েছে।’
এদিকে আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
MCH/SN
আরও পড়ুন