একশত টাকার দায় শোধে ১৫ বছর পর পাওনাদারের দরজায় বৃদ্ধ

সময়ের সঙ্গে অনেক মানুষই পুরোনো হিসাব ভুলে যান। কিন্তু ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এক বৃদ্ধ ভুলতে পারেননি মাত্র ১০০ টাকার একটি দেনা। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে সেই দায় বয়ে বেড়ানোর পর অবশেষে পাওনাদারের হাতে টাকা তুলে দিতে কয়েক কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে তার বাড়িতে হাজির হন।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার মজলিশপুর গ্রামের বাসিন্দা শমসের আলী আখাউড়া পৌর এলাকার খড়মপুরে গিয়ে দেখা করেন খাদেম এয়ার সার্ভিসের স্বত্বাধিকারী এম.এন.এইচ. খাদেম দুলালের সঙ্গে।

শমসের আলী জানান, প্রায় ১৫ বছর আগে বিদেশে লোক পাঠানোসংক্রান্ত একটি লেনদেনের সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে তিনি ১০০ টাকা কম পরিশোধ করেছিলেন। বিষয়টি তার মনে বারবার নাড়া দিত। সামান্য এই অর্থ হলেও অন্যের পাওনা নিজের কাছে রেখে দিতে তিনি স্বস্তি পাননি। তাই সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন।

সম্প্রতি জানতে পারেন, ঢাকায় বসবাসকারী দুলাল খাদেম মাঝেমধ্যে শুক্রবারে গ্রামের বাড়িতে আসেন। সেই খবর পেয়েই সকালে বাড়ি থেকে রওনা হয়ে শুধু একটি উদ্দেশ্য নিয়েই তার বাড়িতে পৌঁছান, বহুদিনের সেই পাওনা শোধ করা।

শমসের আলীর বিশ্বাস বলেন, দেনা যত ছোটই হোক, তা পরিশোধ করা মানুষের নৈতিক দায়িত্ব। তার কাছে ১ টাকা আর ১০০ টাকার মধ্যে সততার প্রশ্নে কোনো পার্থক্য নেই। বহু বছর পর হলেও নিজের দায়মুক্ত হতে পেরে তিনি স্বস্তি প্রকাশ করেন।

দুলাল খাদেম জানান, এত বছরের পুরোনো সেই লেনদেনের কথা তার আর মনে নেই। শমসের আলী ১০০ টাকা হাতে তুলে দিলে তিনি বিস্মিত হন। পরে টাকাটি আবার শমসের আলীর হাতেই ফিরিয়ে দিয়ে ভালো কিছু কিনে খাওয়ার জন্য বলেন।

তবে তিনি আরও বলেন, টাকার অঙ্কে হয়তো মাত্র ১০০। কিন্তু সততা, দায়বদ্ধতা আর বিবেকের কাছে সেই ১০০ টাকার মূল্য অনেক বড়। শমসের আলীর এই ঘটনা মনে করিয়ে দেয় সত্যিকারের সততা কখনো সময়ের কাছে হার মানে না।