গাজীপুরে ছয় মাসে ৮৪২ মামলা

টঙ্গীতে অটোরিকশা থামিয়ে নারীর ওপর হামলা, দুই ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার

গাজীপুর মহানগরের টঙ্গী পূর্ব থানার গাজীপুরা এলাকায় ভোরে চলন্ত অটোরিকশা থামিয়ে এক নারী যাত্রীর ওপর হামলা ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে একটি স্টিলের ছুরি ও একটি স্টিলের চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে।
 
একই সঙ্গে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি) চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসের অপরাধচিত্র প্রকাশ করে জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
 
জিএমপির তথ্য অনুযায়ী, গত ৯ জুলাই সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ময়মনসিংহ-ঢাকা মহাসড়কের গাজীপুরার জিলানী মার্কেট এলাকায় কয়েকজন দুর্বৃত্ত একটি অটোরিকশার গতিরোধ করে। এ সময় তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে এক নারী যাত্রীকে আঘাত করে তার ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পরপরই টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে মো. জাহিদ দেওয়ান (২৬) ও মো. কামাল হোসেন (২৬) নামে দুইজনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের কাছ থেকে যথাক্রমে একটি স্টিলের ছুরি ও একটি স্টিলের চাপাতি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় অস্ত্র আইনের ১৯(১) ধারায় টঙ্গী পূর্ব থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি ১০ জুলাই রুজু করা হয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
 
শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অপরাধ (দক্ষিণ) বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. মহিউদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত মহানগর এলাকায় মোট ৮৪২টি মামলা রুজু হয়েছে। এর মধ্যে হত্যা ১০টি, ডাকাতি ২টি, ছিনতাই ২০টি, সিঁধেল চুরি ৯টি, নারী ও শিশু নির্যাতন ৬৬টি, মাদক ৩৯৭টি, অস্ত্র ২৮টি এবং অন্যান্য অপরাধে ৩১০টি মামলা রয়েছে।
 
এ সময় একটি বিদেশি পিস্তল, একটি বাটযুক্ত ট্রিগারবিহীন দেশীয় শটগানসদৃশ অস্ত্র, ২০ রাউন্ড গুলি, একটি স্পিনার এবং বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ৪২ জন ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোর আকস্মিক মিছিলের ঘটনায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে পুলিশ। এ ধরনের ঘটনায় গাছা থানায় দুটি এবং টঙ্গী পশ্চিম থানায় একটি মোট তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলায় ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি মিছিলে অংশগ্রহণ, সহায়তা বা অর্থায়নের অভিযোগে আরও শতাধিক ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
টঙ্গী পূর্ব থানার পাগাড় বিসিক মার্কেট এলাকায় ঝুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে শক্তি প্রদর্শন ও মহড়ার ঘটনায়ও একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় এজাহারভুক্ত ৯ জন এবং তদন্তে শনাক্ত আরও ৯ জনসহ মোট ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মোটরসাইকেল মহড়ায় অংশ নেওয়া অন্যদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
 
মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে টঙ্গীসহ মহানগরের বিভিন্ন বস্তিতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে পুলিশ। বিশেষ করে মাজার বস্তি, কেরানীর টেক, ব্যাংকের মাঠ ও এরশাদনগর বস্তি এলাকায় অভিযান জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি শীর্ষ মাদক কারবারিদের সম্পদের অনুসন্ধানও চলছে।
ছিনতাই প্রতিরোধে মহানগরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় চেকপোস্ট, নিয়মিত টহল, ব্লক রেইড এবং বিশেষ অভিযান দল গঠন করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া অনেক ছিনতাইকারীর বিরুদ্ধে আগেও একই ধরনের অপরাধে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইন, অস্ত্র আইন এবং ডাকাতির প্রস্তুতিসহ বিভিন্ন ধারায় মামলা পরিচালনা করা হচ্ছে।
জিএমপি জানিয়েছে, অপহরণ ও হানি ট্র্যাপ প্রতিরোধে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, দ্রুত উদ্ধার অভিযান এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়ায় এ ধরনের অপরাধ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। একই সঙ্গে কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে তথ্য সংগ্রহ, তালিকা প্রণয়ন এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কাজ চলমান রয়েছে।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ বলছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে নাগরিকদের সহযোগিতা এবং গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছে পুলিশ।