এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম বীজ উৎপাদন খামার ঝিনাইদহে

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় এশিয়ার দ্বিতীয় সর্ববৃহৎ বিখ্যাত কৃষি খামার দত্তনগরে অবস্থিত। প্রায় ৭৮ বছর আগে কলকাতার বিশিষ্ট ঠিকাদার হেমেন্দ্র নাথ দত্ত ব্রিটিশ শাসনকালে এলাকার কিছু মানুষের সাহায্যে সবজি চাষ শুরু করেন। উল্লেখ্য ব্রিটিশ এই নাগরিকের নাম অনুসারে এলাকার নাম দত্তনগর করা হয় যা মহেশপুর উপজেলায় অবস্থিত।

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় বিশাল আয়তন ও চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলার আংশিক আয়তন নিয়ে অবস্থিত দত্তনগরের হেমেন্দ্র নাথ দত্তের এই সবজি খামার। যা এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহৎতম কৃষি খামার খামার গুলোর অন্যতম। ১৯৪০ সালে হেমেন্দ্র নাথ দত্তের খামারটি প্রায় তিন হাজার (৩০০০) একর জমির উপর অবস্থিত। তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ সেনা বাহিনীর রসদ সরবরাহকারি ঠিকাদার ছিলেন।

তিনি সেনাবাহিনীর জন্য সবজি সরবরাহের ঠিকাদারি লাভ করেন। তাজা সবজি উৎপাদনের জন্য নিজ গ্রাম দত্তনগরে এ বিশাল কৃষি খামার গড়ে তুলেন। ১৯৪০ সালে এ এলাকা ছিল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন নিভৃত পল্লী। 

রেলপথে দর্শনা স্টেশনে সবজি বহন করে নিয়ে কলকাতায় পাঠানোও ছিল দুরূহ ব্যাপার। দীর্ঘ সময় লাগায় পচে যেত। তিনি দত্তনগরে হেলিপ্যাড স্থাপন করেন এবং প্রতিদিন হেলিকপ্টারযোগে টাটকা শাক-সবজি কলকাতায় সরবরাহ করে তিনি প্রচুর লাভ করতেন। খামারের কলেবরও বৃদ্ধি করেন।

দত্তনগর এ বিশাল খামারের আওতায় ৫টি ফার্ম আছে। সেগুলো হচ্ছে গোকুলনগর, পাথিলা, মথুরা, করিঞ্চা এবং কুশাডাঙ্গা। ফার্মগুলোর মোট জমির পরিমাণ ২ হাজার ৭৩৭ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম বীজ উৎপাদন খামার, যা বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)-এর আওতাধীন। আবাদী জমির পরিমাণ প্রায় আড়াই হাজার একর। নিচু জমি আছে ৬-শ’একর এবং বিল এলাকা আছে ২শ’একরের উপর। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের পর এইচ দত্ত দত্তনগর খামার ছেড়ে কলকাতায় চলে যান। ম্যানেজার ও কর্মচারিরা খামার দেখাশুনা করতে থাকেন।

১৯৪৮ সালে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার দত্তনগর খামার অধিগ্রহণ করে এবং কৃষি বিভাগের উপর পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ করা হয়। ১৯৬২ সালে ফার্মের যাবতীয় সম্পত্তি কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

বিএডিসি, বিভিন্ন শস্য বীজ উৎপাদনে খামারটি কাজে লাগায়। অফিস, বাসভবনসহ নানান স্থাপনা নির্মাণ করা হয়। সেচের জন্য বসানো হয় গভীর ও অগভীর নলকূপ। আর ক্ষেতে পানি সরবরাহের জন্য পাকা ড্রেন নির্মাণ করা হয়। আগে শ্রমিক দিয়ে শস্য কর্তন ও মাড়াই করা হতো এখন বড় বড় মেশিনের সাহায্যে ফসল কাটা ও মাড়াই করা হয়।

মহেশপুর উপজেলার দত্তনগর কৃষি খামারের যুগ্ম-পরিচালক কে এম কামরুজ্জামান শাহিন জানান, এটি ২,৭৩৭ একর জমির ওপর অবস্থিত এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম বীজ উৎপাদন খামার, যা বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)-এর আওতাধীন। আগে শ্রমিক দিয়ে শস্য কর্তন ও মাড়াই করা হতো এখন বড় বড় মেশিনের সাহায্যে ফসল কাটা ও মাড়াই করা হয়।

তিনি আরও জানান, একসময় এ খামারে শ্রমিকনির্ভর পদ্ধতিতে শস্য কর্তন ও মাড়াই কার্যক্রম পরিচালিত হতো। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কৃষিক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির সংযোজন ঘটেছে। বর্তমানে বৃহৎ আকারের হারভেস্টার ও অন্যান্য যান্ত্রিক সরঞ্জামের মাধ্যমে দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে ফসল কাটা ও মাড়াই করা হচ্ছে।

যান্ত্রিকীকরণের ফলে উৎপাদন প্রক্রিয়া যেমন ত্বরান্বিত হয়েছে, তেমনি খরচ ও সময়ও সাশ্রয় হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এই কার্যক্রম দত্তনগর কৃষি খামারকে দেশের বীজ উৎপাদন ব্যবস্থায় আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে গেছে।