চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার হেয়াকো এলাকায় দুটি সমবায় সমিতির নামে ফেনী-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কে চলাচলকারী পণ্যবাহী ট্রাক, পিকআপ ও কাভার্ডভ্যান থেকে রশিদ দিয়ে নিয়মিত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় চালক ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, সমিতির সদস্য না হলেও অনেক চালকের কাছ থেকে বাধ্যতামূলকভাবে টাকা আদায় করা হচ্ছে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে দুর্ব্যবহার এবং গাড়ি আটকে রাখারও অভিযোগ রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, উত্তর ফটিকছড়ির অন্যতম বাণিজ্যিক কেন্দ্র হেয়াকো বাজারের পশ্চিম পাশে পাশাপাশি অবস্থিত হেয়াকো ট্রাক-পিকআপ মালিক সমবায় সমিতি ও হেয়াকো ট্রাক-পিকআপ চালক সমবায় সমিতির কার্যালয়ের সামনে কয়েকজন ব্যক্তি পণ্যবাহী যানবাহন থামিয়ে রশিদের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করছেন।
বিশেষ করে খাগড়াছড়ি থেকে ফেনীগামী ট্রাক, পিকআপ ও কাভার্ডভ্যান থেকেই বেশি অর্থ আদায় করতে দেখা যায়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে এ কার্যক্রম চলে আসছে। ২০২৪ সালের মার্চে অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের অভিযোগে উপজেলা প্রশাসন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে সমিতি দুটির কার্যালয় বন্ধ করে দেয়।
তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরীর নেতৃত্বে পরিচালিত ওই অভিযানের পর কয়েক মাস অর্থ আদায় বন্ধ থাকলেও পরে আবারও তা শুরু হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক পিকআপচালক বলেন, “রাস্তায় চলতে গেলে টাকা দিতেই হয়। টাকা না দিলে নানা অজুহাতে হয়রানি করা হয়। আমরা প্রতিবাদও করতে পারি না।”
আরেক ট্রাকচালকের ভাষ্য, “পণ্য পরিবহনে আগে থেকেই নানা খরচ রয়েছে। এর সঙ্গে পথে পথে অতিরিক্ত টাকা দিতে হওয়ায় পরিবহন ব্যয় বাড়ছে। শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের ওপর।”
স্থানীয় পরিবহনসংশ্লিষ্ট কয়েকজন নেতা বলেন, কোনো সমবায় সমিতির সড়কে চলাচলকারী যানবাহন থামিয়ে অর্থ আদায়ের আইনগত ক্ষমতা নেই। সদস্যদের কাছ থেকে সমিতির কার্যালয়ে চাঁদা নেওয়া যেতে পারে, কিন্তু মহাসড়কে গাড়ি থামিয়ে অর্থ আদায় আইনসম্মত নয়। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
অভিযোগের বিষয়ে হেয়াকো ট্রাক-পিকআপ মালিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. নাছির উদ্দিন বলেন, “আমাদের সমিতির ১৮৪ জন সদস্য রয়েছেন। কেবল সদস্য মালিকদের কাছ থেকেই সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নির্ধারিত চাঁদা নেওয়া হয়। সড়কে চলাচলকারী সব গাড়ি থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ সঠিক নয়।”
হেয়াকো ট্রাক-পিকআপ চালক সমবায় সমিতির সভাপতি কামাল উদ্দিন বলেন, “আমাদের সমিতি চালক ও সহকারীদের কল্যাণে কাজ করে। সদস্যদের কাছ থেকে যে অর্থ নেওয়া হয়, তা দুর্ঘটনা, চিকিৎসাসহ বিভিন্ন কল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা হয়।”
ফটিকছড়ি উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা আব্দুল শহীদ ভুঁইয়া বলেন, “সমবায় আইন অনুযায়ী কোনো সমিতি মহাসড়কে যানবাহন থামিয়ে অর্থ আদায় করতে পারে না। তারা শুধু নিবন্ধিত সদস্যদের কাছ থেকে বিধি অনুযায়ী চাঁদা বা ফি নিতে পারে। সদস্যবহির্ভূত ব্যক্তি বা যানবাহনের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের কোনো বৈধতা নেই।”
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, “অর্থ আদায়ের অভিযোগের বিষয়টি জেনেছি। তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, মহাসড়কে যেকোনো ধরনের অননুমোদিত অর্থ আদায় বন্ধে প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান পরিচালনা এবং পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা জরুরি। এতে একদিকে যেমন চালকদের হয়রানি কমবে, অন্যদিকে পণ্য পরিবহনে অপ্রয়োজনীয় ব্যয়ও হ্রাস পাবে।
পাগলা মসজিদে এবার মিললো ৪৩ বস্তা টাকা, চলছে গণনা
লক্ষ্মীপুরে মা ও তিন মেয়ে হত্যার ঘটনায় ২ মামলা
শাহজালাল মাজার পরিচালনায় মন্ত্রীর নেতৃত্বে ১২ সদস্যের কমিটি
অবৈধ ভাবে বালুর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষ, যুবক নিহত