পাগলা মসজিদে এবার মিললো ৪৩ বস্তা টাকা, চলছে গণনা

আপডেট : ২৭ জুন ২০২৬, ১১:৩৫ এএম

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক ও বহুল আলোচিত পাগলা মসজিদের দানবাক্স খুলে এবার মিলেছে রেকর্ড ৪৩ বস্তা টাকা। বর্তমানে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় চলছে টাকা গণনার কাজ। ধারণা করা হচ্ছে, এসব বস্তা থেকে পাওয়া অর্থের পরিমাণ অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে। 

দীর্ঘ ৬ মাস পর শনিবার (২৭ জুন) সকালে মসজিদের ১৩টি দানবাক্স খোলা হয়। 

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল ৭টার দিকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও দানবাক্স খোলা কমিটির আহ্বায়ক মোহাম্মদ এরশাদুল আহমেদের তত্ত্বাবধানে দানবাক্স খোলার কার্যক্রম শুরু হয়। এ সময় কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুস সাকিব খান উপস্থিত ছিলেন। বাক্সগুলো থেকে টাকা প্রথমে বস্তায় ভরা হয়, এরপর ৪৩টি বস্তা মসজিদের দোতলায় নিয়ে মেঝেতে ঢেলে শুরু হয় গণনার কাজ।

টাকা গণনার এই বিশাল কর্মযজ্ঞে এবারও অংশ নিয়েছেন বিপুলসংখ্যক মানুষ। এর মধ্যে পাগলা মসজিদ সংলগ্ন মাদ্রাসার ১১০ জন এবং আল-জামিয়াতুল ইমদাদিয়া মাদ্রাসার ৩০০ জন ছাত্র রয়েছেন। এছাড়া রূপালী ব্যাংকের ১০০ কর্মকর্তা এবং মসজিদের ৩৩ জন স্টাফ এই গণনাকাজে অংশ নিয়েছেন। সার্বিক নিরাপত্তায় কঠোর অবস্থানে রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

এর আগে, গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর ৩ মাস ২৭ দিন পর দানবাক্স খোলা হয়েছিল। তখন পাওয়া গিয়েছিল ৩৫ বস্তা টাকা, যা দিনভর গণনা শেষে দাঁড়ায় ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকায়। পাশাপাশি পাওয়া গিয়েছিল বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণ ও রুপার অলংকার। যেহেতু এবার দীর্ঘ ৬ মাস পর দানবাক্স খোলা হয়েছে এবং বস্তার সংখ্যাও অনেক বেশি, তাই অতীতের যেকোনো রেকর্ড এবার ভেঙে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এদিকে, দানবাক্স খোলার খবর ছড়িয়ে পড়লে সকাল থেকেই মসজিদের আশপাশে উৎসুক মানুষের ভিড় জমতে থাকে। স্থানীয়রা জানান, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষ তাদের মানত পূরণে এই মসজিদে টাকা-পয়সার পাশাপাশি প্রতিনিয়ত হাঁস, মুরগি, গরু, ছাগলসহ নানা জিনিসপত্র দান করে থাকেন।

SN
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত